একদিকে বলছে, “আমাদের কিছুই হয়নি!” অন্যদিকে বিশ্বব্যাঙ্কের দরজায় কড়া নাড়ে, “আমাদের বাঁচাও!” পাকিস্তানের সরকার এবং সামরিক বাহিনীর বক্তব্যে এমন চরম দ্বিচারিতা দেখে সাধারণ মানুষ অবাক। যুদ্ধবাজ সুরে তারা দাবি করছে, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী, যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত! অথচ একই সময়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে হাজার হাজার কোটি ডলারের ঋণের আবেদন করছে তারা। এই বিপরীতমুখী অবস্থান কি শুধুই রাজনৈতিক চালাকি, নাকি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা?
অর্থনীতির বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাকিস্তানের স্টক মার্কেট ধসে পড়েছে, রুপির মূল্যমান কমে গেছে, আর্থিক রিজার্ভ ক্রমাগত কমছে। দেশে দ্রব্যমূল্য এতটাই বেড়েছে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকার দাবি করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে! অথচ বাস্তবতা হল, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে নতুন ঋণের আবেদন করা হয়েছে। যদি কিছুই না হয়ে থাকে, তবে কেন এই তাড়াহুড়ো ঋণের জন্য?
সম্প্রতি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয় বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চেয়েছে, যা আগামী ১০ বছর ধরে পাকিস্তানের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শক্তি খাতে ব্যয় করা হবে। অথচ কিছুদিন আগেও সরকারের একাধিক প্রতিনিধি বলছিলেন, পাকিস্তানের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। তাহলে এই বিপুল ঋণ চাওয়ার কারণ কী? বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সরকার একদিকে জনগণের সামনে শক্তিশালী থাকার ভান করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের আর্থিক দুরবস্থার কথা বলে সাহায্য চাইছে।
যেখানে দেশের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে, সেখানে পাকিস্তান বিপুল সামরিক ব্যয় করছে। অস্ত্র কিনছে, সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করছে। অথচ দেশের সাধারণ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে দিন কাটাচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতির জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নাগালের বাইরে। তাহলে পাকিস্তান কি সত্যিই যুদ্ধের সামর্থ্য রাখে, নাকি এটি শুধু রাজনৈতিক চাল?
আরও পড়ুনঃ Extra marital affair : ‘স্বামীর সামনে প্রাক্তনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চাই!’— স্ত্রীর আবদারে স্তম্ভিত পরিবার, নেটপাড়ায় তীব্র বিতর্ক!
একদিকে তারা দাবি করছে, ‘সব ঠিক আছে’, অন্যদিকে বলছে, ‘আমাদের সাহায্য করো!’ পাকিস্তানের এই দ্বিচারিতার খেলা কতদিন চলবে? বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পরস্পরবিরোধী বার্তা শুধু পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক অবস্থানকেই দুর্বল করছে না, বরং দেশের জনগণের মধ্যেও আস্থা সংকট তৈরি করছে। বাস্তবতা চাপা দিয়ে শুধু কথার খেলায় কি অর্থনীতি বাঁচানো সম্ভব? নাকি পাকিস্তানের সামনে সত্য স্বীকার করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই?





