Pakistan: নরেন্দ্র মোদীর নাম নিতে ভয়! সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ পাক সাংসদের!

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই পাকিস্তানের সংসদে ঘটে গেল নজিরবিহীন ঘটনা। দেশের নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে যখন গোটা পাকিস্তান উত্তাল, তখন নিজেদের পার্লামেন্টেই এমন মন্তব্য— যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও। নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন আক্রমণ? প্রশ্ন উঠছে গোটা পাকিস্তানে।

একটা সময় ছিল যখন কূটনীতি নিয়ে কথা হতো সভা-সেমিনারে। কিন্তু এখন তোপ দাগা হচ্ছে সরাসরি সংসদের মঞ্চ থেকে। দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত, সীমান্তে গর্জন করছে কামান, আর সেই সময়েই পাকিস্তানের এক সাংসদের মুখে এমন শব্দ! প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ‘কাপুরুষ’ শব্দটি প্রয়োগের পর থেকেই রীতিমতো ভাইরাল সেই ভিডিও ক্লিপ। সাধারণ মানুষ বলছেন— এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং দেশের সম্মানকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় ফের পাকিস্তানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে ভারত। ভারতীয় সেনা চালিয়েছে পাল্টা অভিযান— ‘অপারেশন সিঁদুর’। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ভারত। এর পর থেকেই সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে। পাকিস্তান সেনার লাগাতার মর্টার শেলিং ও ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে ভারতীয় বাহিনীও। এই পরিস্থিতিতেই মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ— বলেছিলেন, শহিদদের রক্ত বৃথা যাবে না, সময় হলেই বদলা নেওয়া হবে।

এই বক্তব্যেই অখুশি পাকিস্তানের বিরোধী দল পিটিআই। দলের একজন সাংসদ শাহিদ খট্টাক খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে নির্বাচিত। তিনি সংসদে দাঁড়িয়েই বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কাপুরুষ। তিনি এখনও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম মুখে আনেননি। ভারত সীমান্তে হামলা চালাচ্ছে, আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী শুধু প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন— সেটা কি যথেষ্ট?” এই বক্তব্যে হৈচৈ পড়ে যায় পাকিস্তানের সংসদে। অনেকে কড়া সমালোচনায় মুখর হন, আবার কেউ কেউ শাহিদের সাহসিকতাকেও প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুনঃ India pakistan war : ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত! ১৯৬৮-র বিধি কার্যকর, জরুরি প্রস্তুতিতে নামল গোটা দেশ!

ডিডি নিউজে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শাহিদ বলছেন, “সীমান্তে যখন আমাদের সেনারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে, তখন সরকারের উচিত শক্ত বার্তা দেওয়া। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ এতটাই ভীত যে মোদীর নাম পর্যন্ত মুখে আনতে পারছেন না। সেনারা কী করে বিশ্বাস করবে নেতৃত্ব শক্তিশালী?” তিনি উদাহরণ দেন টিপু সুলতানের— “একটা সেনাবাহিনীর প্রধান যদি সিংহ হয়, সেনারা শিয়াল হলেও লড়বে। কিন্তু যদি প্রধান হয় শিয়াল, তাহলে সিংহরাও পরাজিত হবে।” এই মন্তব্যেই স্পষ্ট— পাকিস্তানে রাজনৈতিক বিভাজন শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, বরং এখন সীমান্ত পরিস্থিতিকেও জটিল করে তুলছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles