কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব একসময় যখন রাস্তায় নেমে আসে, তখন তা আর শুধু প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে না—সাধারণ মানুষও তা অনুভব করে রোজকার জীবনে। ঠিক যেমনটা এখন দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানে। বারবার বিদ্রোহ, জাতিগত সংঘাত, আফগান শরণার্থীদের বিতাড়নের জেরে জনগণের মনে ক্ষোভ জমেছে। আর সেই ক্ষোভ মাঝে মধ্যেই প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভিতরে হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে।
যে দেশে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী—উভয়েই ‘নিরাপত্তা রক্ষাকারী’ বলে পরিচিত, সেই দেশে যদি দুই বাহিনী একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়ায়? পাকিস্তানের পরিস্থিতি এখন এমনই। পঞ্জাবি আধিপত্য এবং অন্য প্রাদেশিক জাতিগুলির প্রতি বঞ্চনার ইতিহাস দীর্ঘ। তার উপরে খাইবার পাখতুনখোয়ার মতো জায়গায় শরণার্থী বিতাড়নের পর থেকে ক্ষোভের আগুন আরও তীব্র হয়েছে।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার একটি থানায় পাক সেনারা ঢুকতেই উত্তেজনা ছড়ায়। থানার ছাদে থাকা পুলিশদের একজন সেনাদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, “কাশ্মীরে যা না… এখানে কেন এসেছ? তোমাদের জেনারেল এলে কিছু করতে পারবে না, আমরা তোদের জেনারেলকে বুটের ডগায় রাখি!” ওই সময় থানার ছাদে হাতে বন্দুকধারী পুলিশ সদস্যদের সেনার দিকে তাক করে থাকতে দেখা যায়। নীচে ইউনিফর্মে থাকা বহু সেনা জওয়ানও ছিলেন। কিন্তু এটা কেবল একদিনের বচসা নয়—এর পেছনে জমে থাকা ক্ষোভের ইতিহাস রয়েছে।
এই খাইবার প্রদেশেই মে মাসের প্রথম দিনেই রক্ত ঝরেছে। বান্নুর চশমি এলাকার স্পিন টাঙ্গিতে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইতে মারা গিয়েছেন তিন পুলিশকর্মী। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই। টিটিপির সঙ্গে সেনার সংঘর্ষ তো রয়েছেই, কিন্তু সমস্যা আরও জটিল যখন সেনা অভিযানের নামে সাধারণ নাগরিকদের নিশানা করছে। আগেও আফগানিস্তানে জঙ্গিদের খোঁজে গিয়ে শিশু ও মহিলাদের মৃত্যু ঘটিয়েছে পাক সেনা। এই সব ঘটনার প্রতিক্রিয়াই কি এবার ছড়িয়ে পড়ছে বাহিনীর ভিতরেও?
আরও পড়ুনঃ Assault and Threats in Restaurant: বাচ্চার বিরিয়ানি দোকানে আতঙ্কের রাত! এগরোল দিতে দেরি করায় গালিগালাজ, দোকানে চড়াও হয়ে বাচ্চাকে মারধর— সিসিটিভিতে ধরা পড়ল লজ্জার ছবি!
‘লাকি মারওয়াত পুলিশ’ বনাম ‘পাক সেনা’—কোনটি বড়? ভাইরাল ভিডিয়োয় পুলিশের এক সদস্য স্পষ্ট উচ্চারণে বলেন, “এটা লাকি মারওয়াত পুলিশ, মনে রেখো।” এই উচ্চারণ যেন শুধু একটি জেলার নয়, বরং গোটা পাঠান জনজাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সেনা-পুলিশের এই সংঘর্ষ যদিও বড় কোনও যুদ্ধ নয়, কিন্তু এর মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে—পাকিস্তানে প্রাদেশিক জাতিসত্তা, প্রশাসনিক বঞ্চনা এবং রাজনৈতিক আধিপত্য এক জটিল লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে। এবং এই সংঘর্ষ হয়তো কেবল শুরু।





