অবশেষে স্বীকার! ভারতের বালাকোট হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ৩০০ জনের,  অস্বস্তি বাড়িয়ে মেনে নিলেন পাক কূটনীতিবিদ

ভারতের সামনে ফের বাড়লো  ইমরানের অস্বস্তি! গত অক্টোবরে পাকিস্তানের বিরোধী দল পিএমএল-এনের সাংসদ আয়াজ সাদিক দাবি করেছিলেন, পুলওয়ামা হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নেতারা ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।তারপর ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান ‘গুলি করে নামানোর ঘটনা ঘটে’।

সংসদ ভবনে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দেখা না করেই উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইমরান। বিরোধী সাংসদ অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব এতটাই আতঙ্কে ছিল যে ‘ভয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির পা কাঁপছিল।’ সেই মন্তব্যের জেরে তড়িঘড়ি আসরে নামতে হয় উচ্চপদস্থ কর্তাদের।

আর এবার ফের একবার সত্য প্রকাশ্যে এল! দেশের অস্বস্তি বাড়িয়ে মুখ খুললেন পাকিস্তানের আর‌ও এক কূটনীতিবিদ। স্বীকার করলেন ভারতের বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকে, ২০১৯ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সম্প্রতি, একটি বৈদ্যুতিন উর্দু সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে আঘা হিলালি নামে প্রাক্তন কূটনীতিবিদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করেছিল ভারত। তাঁদের গতিবিধি ছিল যুদ্ধের মতো। এই হামলায় কমপক্ষে ৩০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। ওঁদের থেকে আমাদের লক্ষ্য ভিন্ন ছিল। আমরা ওঁদের হাইকমান্ডদের নিশানা করেছিলাম। ওটাই আমাদের সত্যিকারের নিশানা ছিল, কারণ ওঁরা সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন। আমরা অবচেতনভাবে স্বীকার করে নিয়েছিলাম যে একটি নিয়ন্ত্রিত সামরিক পদক্ষেপের (সার্জিকাল স্ট্রাইক) ফলে কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। অবচেতনভাবেই আমরা ওঁদের বলেছিলাম যে ওরা যা করবে, আমরা সেইটুকুই করব এবং তার বেশি যাব না।’

আর এই কূটনীতিবিদের এহেন মন্তব্যের পর যথারীতি মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। তাঁর সরকার প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল, পাকিস্তান খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ভারতীয় বায়ুসেনার সেই হামলায় কেউ হতাহত হননি। নগণ্য কিছু ক্ষতি হয়েছে। যদিও প্রথম থেকেই ইসলামাবাদের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু এবার খোদ পাকিস্তানের অন্দর মহল থেকেই সত্যি কথা প্রকাশ্যে এলো। কোথায় মুখ লুকাবেন ইমরান খান?

RELATED Articles