বাংলার রাজপাট দখল করতে নন্দীগ্রামে জোর লড়াই শুরু দিদি, ভাইয়ের! ভাঙলো শুভেন্দু’র অফিস, পালালো কর্মীরা

কিছুদিন আগেই তৃণমূলের সঙ্গে ২১ বছরের দীর্ঘ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এখন তিনি বিজেপি নেতা। বিভিন্ন মঞ্চ থেকে জোরদার আক্রমণ করা শুরু করেছেন বাংলার বর্তমান শাসকদলকে।

তাঁর এই দল পরিবর্তন ২১শের বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বিজেপির জন্য বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।

মুখে না বললেও তাঁর দলত্যাগে শাসকদলের যে বেশ ক্ষতি হয়েছে তা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট‌।  ‌

যে নন্দীগ্রামের মাটি থেকে শুভেন্দু-মমতা একসঙ্গে তৃণমূলের উত্থানের বীজ বপন করেছিলেন, সেখান থেকেই এবার তাদের পারস্পরিক লড়াই শুরু হলো।

নন্দীগ্রামে সভা করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবার বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর অফিসে ভাঙচুর চালাল দুষ্কৃতীরা। আসবাবপত্র ও বাইক ফেলে দেওয়া হল পুকুরে। কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচলেন অফিসের কর্মীরা।

আর যথারীতি এই ঘটনায় অভিযোগে তীর রাজ্যের শাসক শিবিরের দিকেই।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে , বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর গতকাল অর্থাৎ শুক্রবারই প্রথম নন্দীগ্রামে  জনসভা করেন শুভেন্দু। যথারীতি সেই সভা থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন এই নেতা।  সিপিএম-র সঙ্গে তুলনা টেনে বলেন, ‘সিপিআইএম কোনওদিন তৃণমূলের কোনও সভায় ঢুকে ঢিল মারেনি। কোনওদিন দেখিনি।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগামী ১৮ই জানুয়ারি নন্দীগ্রামের তেখালি বাজারে সভা করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর সভার পর‌ই নন্দীগ্রামের সভা থেকে ১৯ জানুয়ারি খেজুরিতে পাল্টা জনসভা করার কথা ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু।  জানিয়েছেন, ‘১৮ তারিখের সভায় মমতা যা বলবেন, ১৯ তারিখ তার উত্তর দেবে।’

উল্লেখ্য, অন্যান্যবার শহিদ দিবস উপলক্ষে নন্দীগ্রামে যেতেন তৃণমূলের একদা বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এখন যেহেতু তিনি বিজেপি নেতা তাই এবার ৭ জানুয়ারি শহিদ দিবসে নন্দীগ্রামে সভা করার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর তারপরই ৮ তারিখ অর্থাৎ গতকাল, নন্দীগ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে তার জবাব দেবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, “৭-এ আসুন। ভাষণ দিন। আমি জানি, আপনি কী বলবেন। ৮ তারিখে আমি আপনাকে জবাব দেব।’

কিন্তু  বিধায়ক অখিল গিরি করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাটি স্থগিত হয়। আর তারপর হঠাৎই শুভেন্দু’র অফিসেই এই হামলা। বিজেপি এই হামলায় সরাসরি নিশানা করেছে রাজ্যের শাসকদলের দিকে। শুভেন্দুর এই তৃণমূলের অন্দরমহলের ভাঁড়ার খোলা হয়ত পছন্দ হচ্ছেনা ঘাসফুল শিবিরের!

RELATED Articles