গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রাজনীতিতে একাধিক নাটকীয় মোড় এসেছে। বিশেষত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখনই প্রশাসনে থেকেছেন, তখনই তাঁর নীতিগুলি বিশ্ব বাণিজ্যকে একপ্রকার চাপে ফেলে দেয়। এবারও সেই চেনা পথে হাঁটলেন ট্রাম্প। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে চীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ছায়ায় ব্রিকস (BRICS) দেশগুলোর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন তিনি। আর এই পদক্ষেপের সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের ওপর।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ভারত-সহ ব্রিকস সদস্য দেশগুলি থেকে আমদানিকৃত তামার ওপর ৫০ শতাংশ এবং বিদেশি ওষুধের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। তাঁর অভিযোগ, ব্রিকস গোষ্ঠী আমেরিকার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে, ডলারের প্রাধান্য খর্ব করার জন্য নানারকম চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে যদি ভারত ব্রিকসের সদস্য থাকে, তবে তাকেও সেই দায়ভার নিতে হবে। এই ঘোষণার পরই ভারতের রফতানিকারী মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
মার্কিন বাজার ভারতের ওষুধ রফতানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে প্রায় ৯.৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ আমেরিকায় রফতানি করেছে ভারত। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট ওষুধ রফতানির ৪০ শতাংশই যায় মার্কিন মুলুকে। ট্রাম্পের ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, ভারতের ফার্মা ইন্ডাস্ট্রির উপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। এতে দামি হয়ে পড়বে ভারতীয় ওষুধ, ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও কঠিন হয়ে উঠবে অনেক সংস্থার জন্য।
শুধু ওষুধই নয়, বিপদের মুখে পড়েছে ভারতের তামা রফতানিও। প্রযুক্তি, নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক পণ্যে ব্যবহৃত এই ধাতুর বিশ্ববাজারে চাহিদা বিপুল। ২০২৪-২৫ সালে ভারত প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের তামা রফতানি করেছে, যার মধ্যে ৩৬০ মিলিয়ন ডলার গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে— যা ভারতের মোট তামা রফতানির ১৭ শতাংশ। এবার সেই মার্কেটে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো হলে ভারতের রফতানিকারী সংস্থাগুলি বড়সড় আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুনঃ Bharat Bandh impact on WB: বনধে বামেদের বিক্ষোভে অগ্নি*গর্ভ যাদবপুর, জ্বলল পুলিশের জুতো—কোথায় কেমন প্রভাব বাংলায়?
এই পরিস্থিতির মধ্যে বড় প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। আশা করা হচ্ছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের পণ্য আমেরিকার বাজারে আরও সুবিধাজনকভাবে প্রবেশ করতে পারবে। কিন্তু ট্রাম্পের এই শুল্ক-ঘোষণা সেই আশায় জল ঢেলে দিল। তাঁর বক্তব্য, “যদি ভারত ব্রিকসে থাকে, তাহলে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতেই হবে।” এখন দেখার, ভারত কিভাবে এই বাণিজ্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে।





