মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশের একাধিক রাজ্যে পালিত হচ্ছে ভারত বনধ। কেন্দ্রীয় শ্রম নীতির বিরুদ্ধে ১০টি বড় শ্রমিক সংগঠনের ডাকে এই বনধ। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি শ্রমিক এই বনধে সামিল হয়েছেন। আর সেই প্রভাব সকাল সকাল টের পাওয়া যায় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক প্রান্তে। কোথাও পথ অবরোধ, কোথাও আবার দোকানপাট বন্ধ রাখতে চাপ—সকালে কর্মস্থলের পথে বেরোনো সাধারণ মানুষ পড়েন বিপাকে।
উত্তেজনার আঁচ লাগে দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরে, যা এক সময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড এবং বাঘাযতীন স্টেশন চত্বরে বনধ সমর্থকদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও লাল পতাকা। সেই সঙ্গে ছিল মিছিল ও পথ অবরোধের চেষ্টা। এই সময় কুশপুতুল ও টায়ার জ্বালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বাম সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয়। আর সেই সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ে কাছাকাছি একটি দোকানে। পুলিশ আগুন নেভাতে গেলে এক কর্মীর জুতোয় আগুন ধরে যায়। আতঙ্ক ছড়ায় এলাকাজুড়ে।
কলকাতার বাইরেও বনধের প্রভাব পড়ে প্রবলভাবে। বেলঘরিয়ার বিটি রোডে প্রবর্তক জুটমিলের সামনে রাস্তায় বসেন সিপিএম কর্মীরা। একইভাবে ডোমজুড়ের রাস্তায় নেমে যান সিপিএম নেতা-কর্মীরা। রাস্তা অবরোধ ও বাস-লরি আটকানোর চেষ্টা হয়। ডোমজুড় বাজার এলাকায় দোকান বন্ধ রাখার জন্য জোরাজুরি করেন বনধ সমর্থকরা। অবশেষে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হলদিয়ার রানিচক স্টেশনে রেল অবরোধ করতে গেলে বনধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় রেল পুলিশ। ট্রেন বন্ধ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয় নিরাপত্তারক্ষীরা। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির আরটিসি ডিপোর সামনে সকাল থেকে বাম সমর্থকেরা জমায়েত করেন। পুলিশ সেখান থেকেও একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
আরও পড়ুনঃ এ কেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান? নেতাজির নাম জড়ানো স্কুলেই হিংসার শিক্ষা!শিক্ষকরাই হাত ধরিয়ে দিলেন লাঠি, বাচ্চাদের দিয়েই খু*ন পথকুকুরকে!
আসানসোলে বনধের সমর্থনে পথে নামেন সিপিএম কর্মীরা। কিন্তু সেখানে প্রতিবাদে মুখর হন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন INTTUC-এর সদস্যরা। গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করতেই বামেদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।





