বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে ফের ছাত্র আন্দোলনে তপ্ত ওপার বাংলা। আর এবার সেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল বঙ্গবন্ধুর শহর গোপালগঞ্জ। ছাত্রদের এক পদযাত্রাকে ঘিরে সহিংসতা, রক্তক্ষয় ও সংঘর্ষে জেরবার হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা। এমন অবস্থায় সেনা মোতায়েন ও কার্ফু জারি করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা এনসিপির দাবি, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।
জানা গিয়েছে, জুলাই মাস জুড়ে সারা বাংলাদেশ জুড়ে পদযাত্রার কর্মসূচি নিয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)। তারই অঙ্গ হিসেবে মঙ্গলবার ছিল ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’। সকাল থেকেই সেই কর্মসূচিকে ঘিরে তৈরি হয় চাপা উত্তেজনা। পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লিগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এনসিপির ছাত্র-যুব কর্মীদের। পরিস্থিতি ক্রমেই হাতের বাইরে চলে যেতে শুরু করে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকেই গোপালগঞ্জে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু হয়। এনসিপির দাবি, আওয়ামী লিগ ও ছাত্রলীগ পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, গুলিবিদ্ধ অন্তত ৯ জন। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি। এমনকী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলখানা, পুলিশের গাড়ি এবং পথচলতি সাধারণ যানবাহনেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
হামলার সময় গোপালগঞ্জে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল যে, নেতারা আশ্রয় নেন জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে। বিকেল ৫টার পর সেনা, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির নিরাপত্তায় তাঁদের গোপালগঞ্জ থেকে সরিয়ে আনা হয়। রাতেই খুলনায় সাংবাদিক সম্মেলনে দলটি অভিযোগ তোলে “এই হামলা গণ-অভ্যুত্থান দমন করতে এবং নেতৃত্ব হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ আবহাওয়া আপডেট: বৃষ্টি কমলেও অস্বস্তিকর গরম, সমুদ্র উত্তাল, কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রইল
এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে এনসিপি। ঢাকার শাহবাগ, মিরপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ ও প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরাও। এমনকী, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও এই হামলার নিন্দা করে শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে, গোপালগঞ্জে আজ সন্ধে ৬টা পর্যন্ত কার্ফু জারি রয়েছে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও দেড় হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা।





