দু দিনের লাদাখ সফরে যাচ্ছেন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে। ১৪ নম্বর কর্পসের হেডকোয়ার্টারে গিয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন তিনি। গত ১৫ই জুন গালওয়ান উপত্যকায় চীনের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত জওয়ানদের সাথেও দেখা করবেন এবং শীর্ষ সেনাকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন। সীমান্তের পরিস্থিতি জানার পাশাপাশি ভারত ও চীনের মধ্যে সামরিক আলোচনা কতদূর এগিয়েছে তাও সেনা কর্তাদের মুখ থেকে বিস্তারিত জানবেন নারাভানে। এছাড়া সীমান্তে কর্মরত জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলে শ্রীনগরে ১৫ নম্বর কর্পস হেডকোয়ার্টারেও যাওয়ার কথা তাঁর। সন্ত্রাস মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতিতে কোনো খুঁত আছে কিনা সরজমিনে খতিয়ে দেখেবেন তিনি।
পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় সেনা সংঘর্ষের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে৷ এখন সেখানে ‘স্ট্যান্ড অফ’ জারি অর্থাৎ দুপক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও না সরে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার ফের বৈঠক হয় দু’দেশের সেনাকর্তাদের মধ্যে।
তবে এ দিনের দীর্ঘ বৈঠকেও কোনো সুরাহা হয় নি। এই নিয়ে চলতি সপ্তাহে চার বার বৈঠক বসে দুদেশের মধ্যে। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে মলডো থেকে ভারত এই বৈঠকে অংশ নেয়। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে চীন সেনার এক কর্তা স্বীকার করেছেন, গলওয়ানে তাঁদের এক কম্যান্ডিং অফিসারের মৃত্যুর কথা। এই প্রথম, চীন তাঁদের সেনা মৃত্যুর কথা মানল।
১৫ই জুনের পর থেকে গলওয়ান উপত্যকায় নতুন কোনো সমস্যা হয়নি, তবে দু’দেশের সেনাবাহিনীও পুরোনো অবস্থানে ফিরে যায়নি। তাই বিবাদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সুতারং সতর্কতা হিসেবে লাদাখে সীমান্ত বরাবর ‘স্যাম’ অর্থাৎ ‘সারফেস টু এয়ার মিসাইল’ লঞ্চার সিস্টেম রাখা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র পার্বত্য এলাকাতেও দূরের টার্গেটকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। অন্যদিকে, সোমবারের একটি বৈঠকে চীন সীমান্তে ৩২টি রাস্তা তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক৷
সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি জারি থাকলেও দু’পক্ষই বিবাদকে মিটিয়ে নিতে এখনও আলোচনার উপরেই ভরসা রেখেছে। মঙ্গলবারও চীনের মেজর জেনারেল লিন লিউ ও ভারতের লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিংয়ের মধ্যে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, সোমবার দুই বাহিনীর বৈঠকে কয়েকটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছে ভারত। প্রথমত, পূর্ব লাদাখে কোনও ভাবেই নতুন কোনো উত্তেজনা তৈরি হতে দেওয়া যাবে না৷ বিশেষ করে, প্যাংগং লেক এবং তার ‘ফিঙ্গার’ অঞ্চল ৪ থেকে ৮ নম্বর খালি করতে হবে। এমনকি চীন ওই এলাকা থেকে কবে সেনা সরাবে, তাও জানতে চেয়েছে ভারত৷ পাশাপাশি পিএলএ-কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্যাট্রোলিং পয়েন্ট ১৪-র নিকটবর্তী এলাকায় আগের মতোই নজরদারী চালবে।
পাশাপাশি আজকের বৈঠকে ২রা মে-র আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার কথা বলতে পারে দুদেশই। দুই দেশের এই দীর্ঘ বৈঠকের কারণ হলো ভাষাগত সমস্যা। প্রধানত ইংরেজি এবং ম্যান্ডারিন তর্জমাতেই অনেক সময় চলে যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
গলওয়ানের সংঘর্ষের পর চীন ও পাকিস্তান সীমান্তে সেনা সমাবেশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক৷ অর্থাৎ সীমান্ত এলাকায় প্রতি বর্গ কিলোমিটারে এবার থেকে আরও বেশি সংখ্যায় জওয়ান মোতায়েন থাকবে।
গলওয়ানে ১৫ হাজার ফুট উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে মাত্র ৫০ জন ভারতীয় সেনা অদম্য লড়াই লড়েছেন ৩০০-র বেশি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চীন সেনার সাথে। সেক্ষেত্রে কিছুটা হলেও বাড়তি সুবিধা পেয়েছে পিএলএ। তাই ভারতও এবার সেনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল। পূর্ব লাদাখে ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া সরকারি সূত্রের খবর, অরুণাচল ও সিকিমেও চীন সীমান্তে বাড়তি সেনা মোতায়েন করছে ভারত।





