রামমন্দিরের উদ্বোধন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনার অন্ত ছিল না। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২২ জানুয়ারি হয়েছে অযোধ্যার রামমন্দিরের শুভ উদ্বোধন। ৫০০ বছর পর নিজের জন্মভূমিতে ফিরেছেন রামচন্দ্র। প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেদিন রামলালার। ৫ বছরের শিশুর ন্যায় দেখতে শ্রী রামের সেই মূর্তি। এই মূর্তি তৈরি করেছেন শিল্পী অরুণ যোগীরাজ।
দেশজুড়ে এখন চর্চায় উঠে এসেছে অরুণ যোগীরাজের নাম। কৃষ্ণশিলায় মূর্তিতে ভাব ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। মিষ্টি হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ৫ বছরের রামলালা। সেই মূর্তি অলঙ্কারে সাজিয়ে স্থাপন হয়েছে মন্দিরে। অনেক শিল্পীই মূর্তি তৈরি করলেও অরুণ যোগীরাজের মূর্তিই বেছে নেওয়া হয় গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠার জন্য। তবে যোগীরাজ জানালেন যে মূর্তির প্রাণ প্রতিষ্ঠার তিনি চমকে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, তিনি মূর্তি দেখে চিনতেই পারেন নি।
কী বলেছেন অরুণ যোগীরাজ?
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অরুণ যোগীরাজ বলেন, “রামলালাকে একেবারে অন্যরকম দেখতে লাগছিল। মনে হচ্ছিল এটা আমার করা কাজই নয়”।
তিনি বলেন, “নির্মাণের সময় অন্যরকম ছিলেন রামলালা। প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর তা সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। আমার মনে হচ্ছে, এটা আমার তৈরি মূর্তিই নয়। এই মূর্তিটিকে তো একদম অন্যরকম দেখতে লাগছে। ভগবান ভিন্নরূপ ধারণ করেছেন। অলঙ্কার ধারণের পর রামলালাকে একদম অন্যরকম দেখতে লাগছে”।
পাথরের মূর্তিতে ভাব ফুটিয়ে তোলা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
অরুণ যোগীরাজ জানাচ্ছেন, গত সাত মাস এই মূর্তি নির্মাণের কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। তাঁর কথায়, “আমার লালা আমায় আদেশ দিয়েছিলেন। আমি শুধুমাত্র সেই আদেশ পালন করেছি। শিল্প শাস্ত্র মোতাবেক যেন মূর্তি নির্মাণ হয়, এইটুকুই চিন্তা ছিল আমার। পাঁচ বছরের বালকের রূপ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম। যাতে রামলালার মুখে সেই নিষ্পাপ ভাব প্রকাশ পায়”।
অরুণ যোগীরাজ জানান তিনি মূর্তি তৈরির আগে কৃষ্ণশিলা নিয়ে আগে দীর্ঘদিন সময় কাটিয়েছেন। পাঁচ বছরের শিশুর মুখ, তার মুখের ভাব ঠিক কেমন হতে পারে, তা নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছেন। পাথরের মূর্তিতে পাঁচ বছরের শিশুর ভাব ফুটিয়ে তোলা বেশ কঠিন কাজই ছিল। তবে অরুণ যোগীরাজের দাবী, রামলালার আশীর্বাদেই সেই কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।





