২৪-শে প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে মমতা পিছনে ফেলে দেবেন কেজরিওয়াল, আপ-এর আতঙ্কে কালো মেঘ দেখছে ঘাসফুল শিবির

পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়ু দিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মতো ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক দলদের সাফ করে দিয়েছে আম আদমি পার্টি। এর জেরে জাতীয় রাজনীতিতে যে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গুরুত্ব অনেকাংশেই বৃদ্ধি পেয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। মোদী বিরোধী মুখ হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে এসেছেন তিনি। এমনকি, মনে করা হচ্ছে যে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে দিল্লির মসনদ দখলের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পিছনে ফেলে দেবেন কেজরিওয়াল।

২০১৪ সালেই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়াতে চেয়েছিল আপ। সেই সময় নরেন্দ্র মোদীর গড় বারাণসী থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়েওছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। কিন্তু সেবার জাতীয় দল হয়ে ওঠা হয়নি তাদের। তবে এর আট বছর বাদে ঘুরে দাঁড়িয়ে পঞ্জাবের গদি দখল করতে সক্ষম হয়েছে আপ।

এদিকে, বাংলায় বিজেপি হাওয়াকে আটকে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জেরে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তাঁকে চব্বিশের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের মধ্যে প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিল তৃণমূল। এই কারণে বাংলার বাইরেও সংগঠন মজবুত করতে উদ্যত হয় ঘাসফুল শিবির। কিন্তু খাতা খোলা হয়নি তাদের। গোয়াতেও হতাশজনক ফল হয়েছে তৃণমূলের।

এর জেরে দিল্লি দখলের লড়াইতে খানিকটা হলেও পিছিয়ে পড়েছেন মমতা। আর এদিকে, সেই লড়াইয়ে আবার এবার এগিয়ে এলেন কেজরিওয়াল। দিল্লি ও পঞ্জাব, দুই রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা নেতা, প্রাক্তন সরকারি কর্তা, আইআইটি ইঞ্জিনিয়ার ও হিন্দিভাষী অরবিন্দ কেজরিওয়াল যে দেশবাসীর কাছে মমতার থেকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে এত সহজে জমি ছেড়ে দিতে রাজি নন তৃণমূল সুপ্রিমোও। আর তা তাঁর বক্তব্যেই বেশ স্পষ্ট। গতকালই ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর ও মমতা দুজনেই হুঁশিয়ারি শানিয়ে বলে দিয়েছেন যে আসল লড়াইটা হবে ২০২৪-এই। মাঝে আর দুটো বছরের অপেক্ষা। এর মধ্যে দেখা যাক, জল কতদূর গড়ায় আর দিনশেষে দিল্লি কার হাতে থাকে!

RELATED Articles