তৈরি হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম টানেল! নরেন্দ্র মোদীর হাতে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ভারতের ‘অটল টানেল!’

টানেলের মধ্যে দিয়ে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা কম বেশি অনেকের‌ই আছে। বিশেষত বেড়াতে গেলে এইরকম স্বল্প দৈর্ঘ্য সুড়ঙ্গ ট্রেন পথে অনেক সময়‌ই আমরা পেড়িয়েছি। কিন্তু দীর্ঘ, বৃহত্তম সুরঙ্গ ভারতের মাটিতে দেখার সৌভাগ্য হয়ত হয়নি। তবে এবার হয়তো আক্ষেপ মিটতে পারে। কারণ শুধু দেশ নয় খোদ ভারতভূমিতেই তৈরি হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম টানেল। এই টানেলটির নাম রাখা হয়েছে রোটাং টানেল(Rohtang Tunnel) বা অটল টানেল(Atal Tunnel)। বিশ্বের বৃহত্তম এই সুড়ঙ্গটি হিমাচল প্রদেশের মানালি থেকে কেলং যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ৩২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই সুড়ঙ্গটি তৈরি করতে।

খবর পাওয়া গেছে এই টানেলের কাজ প্রায় শেষের দিকে। করোনা আবহের মধ্যেই এই মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর(Narendra Modi) হাতে উদ্বোধন হবে বিশ্বের দীর্ঘতম ও বৃহত্তম সুড়ঙ্গের। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মূলত সেনা-পরিবহণের জন্য এই টানেলের পরিকল্পনা করা হলেও, পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষরাও এই টানেল ব্যবহার করতে পারবেন। এই সুড়ঙ্গটি প্রস্তুত হওয়ার ফলে মানালি থেকে লেহ – লাদাখ দূরত্ব হ্রাস পাবে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার, বিশ্বের দীর্ঘতম এই টানেলের নাম রাখা হয়েছে ভারতের পূর্ব প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর নামে। এটি তৈরি হতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ বছর।

এই সুড়ঙ্গটির কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। আর মূলত যেহেতু সেনা যাতায়াতের জন্য এই সুড়ঙ্গটি নির্মাণ করা হয়েছে তাই বিশেষ কিছু দেখে মাথায় রাখা হয়েছে। যেমন – এই সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে সহজেই ৩০০০ গাড়ি এবং ১৫০০ ট্রাক এক সঙ্গে পাস করতে পারে। লাদাখে মোতায়েন ভারতীয় সেনারা এই সুড়ঙ্গ থেকে প্রচুর উপকার পাচ্ছে। শুধু জোজিলা পাস নয়, এখন এই নতুন রুটেও সেনাবাহিনীর পণ্য সরবরাহ করা হবে, এবং শীতকালে রসদ সরবরাহ এবং অস্ত্র সরবরাহ করা আরও সহজ হয়ে যাবে এর ফলে। তাছাড়া এই টানেলের অভ্যন্তরে অত্যাধুনিক অস্ট্রেলিয়ান টানেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, আর এটির মধ্যে একটি অস্ট্রেলিয়ান প্রযুক্তি ভিত্তিক বায়ুচলাচল ব্যবস্থাও রয়েছে।

এই টানেলের অভ্যন্তরে সিসিটিভি (CCTV) স্থাপন করা হয়েছে যা গতি এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক করবে,২০০ কিলোমিটার দূরে টানেলের ভিতরে একটি ফায়ার হাইড্রেটের(Fire Hydrator) ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তাছাড়া ডিআরডিও এই টানেলের নকশা তৈরিতে সহায়তা করেছে যাতে তুষার এবং তুষারপাতের ফলে এই টানেলের কোনও প্রতিকূল প্রভাব না পড়ে।

আর শুধু তাই নয়, চীনের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বেও এই টানেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে কারন এর মাধ্যমে চীন সীমান্ত থেকে খুব সহজেই সেনাকে সরিয়ে আনা যাবে। পাশাপাশি, এই টানেলের কারণে এখন গভীর শীতেও মানালি থেকে কেলং যেতে পারবেন পর্যটকেরা।

RELATED Articles

Leave a Comment