মোদীর আবেদনে সাড়া দিল বাংলাও, চাপ বাড়ল মমতার

রবিবার কাঁটাটা যখনই পাঁচের ঘরের গেল তখনই একসঙ্গে চারদিক থেকে বেজে উঠল কাঁসর-ঘণ্টা, থালা-চামচের শব্দ। তার সাথে শোনা গেল শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনির আওয়াজ। নরেন্দ্র মোদীর আবেদনে বাংলার মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ততা রাজ্যের গেরুয়া নেতাদের হাসি চওড়া হলেও শাসকের চাপ বাড়লো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি নোভেল করোনার প্রকোপ রুখতে ‘জনতা কার্ফু’র ডাক দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই উদ্যোগে সামিল হয়েছে গোটা দেশ। এমনকি বাংলার অনেক মানুষ। জনতা কার্ফুর পাশাপাশি তিনি এদিন সবাইকে করতালি দিয়ে জরুরি পরিষেবায় নিযুক্ত মানুষকে স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন ,সংবাদমাধ্যমের মতো জরুরি পরিষেবায় নিযুক্ত কর্মী, যাঁরা নিজেদের কথা না ভেবে অন্যদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন, হাততালি, থালা, কাঁসর, ঘণ্টা বাজিয়ে বিকেল পাঁচটায় তাঁদের ধন্যবাদ জানাতেও বলেন।

সেই মতোই এ দিন সকাল থেকে কার্ফুতে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মেলে। শুধু তাই নয়, বিকাল ৫টা বাজতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজের নিজের বাড়ির বারান্দা এবং ছাদে জড়ো হয়ে মানুষ জন কেউ কাঁসর-ঘণ্টা, তো কেউ শাঁখ, কেউ আবার চামচ দিয়ে থালা বাজাতে শুরু করেন। কোথাও কোথাও আবার ‘গো করোনা’ স্লোগানও ওঠে।

তবে কাঁটায় কাঁটায় বিকেল পাঁচটা বাজতেই যে মোদীর কথা শুনে করতালি কাঁসার ঘণ্টা ছাড়াও পাড়ায় পাড়ায় যে এত স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে ঘণ্টাধ্বনি-শঙ্খধ্বনি শোনা যাবে, তা হয়তো অনেক তৃণমূল নেতাই আশা করেননি। মিনিট কুড়ি ধরে যেভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে তারা সাড়া দিলেন তাতে পরিষ্কার ,দেশে কোরোনা যুদ্ধে বাংলার একটা বড় অংশের মানুষের মন জয় করেছেন নরেন্দ্র মোদী।

উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই প্রশ্ন বাংলার মানুষের মধ্যে কোনো ছাপ ফেলেনি বলেই মত বিজেপি নেতাদের। লোকসভা নির্বাচনে এরাজ্যে বিজেপি শক্তিশালী হলেও সিএএ-এনআরসি আন্দোলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সমান তালে লড়ে গেছেন সেকথা অনেকেই স্বীকার করেন। এখন আবার রাজ্যের ভয়াল সময় । এই দুঃসময় কোরোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাংলার আপামর জনতা।

এদিন এক বিজেপি নেতা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত আক্রমণের পরও বাংলায় মোদীর জনপ্রিয়তা যে কতটা, সেটা এদিন প্রমাণ পেল তৃণমূল।” কিন্তু এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই সময়টা শুধু রাজ্যের মানুষের হিতে কাজ করে চলেছেন। তাঁর কাছ থেকে এই রাজনৈতিক বিষয় এখন কোনো মন্তব্য আসেনি। তিনি মনে করেছেন এখন রাজনীতি ভেদভেদের সময় নয় এখন একত্রিত হওয়ে একটা পদক্ষেপ নেওয়ার সময় । কোরোনাকে নিষ্ক্রিয় করার সময়।

RELATED Articles

Leave a Comment