মুর্শিদাবাদ জেলায় উৎসবের মরশুমেই তৎপর হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ও জেলা পুলিশ। নিয়মিত নজরদারি চালানোর সময়ে একাধিক অভিযানে ধরা পড়েছে তিন বাংলাদেশি নাগরিক। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বেআইনিভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা ছাড়া ভুয়ো পরিচয়ে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে বসবাসও করছিলেন। ঘটনার পর জেলা জুড়ে নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।
জঙ্গিপুর থানার সুতির এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথমে গ্রেফতার হন বাংলাদেশের রাজশাহীর শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ বাবু। তদন্তে উঠে আসে তিনি এক প্রভাবশালী তৃণমূল কর্মীর নাম ব্যবহার করে নিজের ভুয়ো পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। শুধু তাই নয়, বাবু মাঝে মাঝেই সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশ যাতায়াত করতেন বলেও জানা যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, তৃণমূল কর্মী শাহেদুল শেখকে নিজের বাবা হিসেবে দেখিয়ে ভুয়ো আধার ও ভোটার কার্ড বানিয়ে ফেলেন ওই বাংলাদেশি নাগরিক। সেই পরিচয়ের আড়ালেই তিনি দীর্ঘদিন ভারতীয় হিসেবে বসবাস করছিলেন। তবে পুলিশের কড়া তদন্তে ফাঁস হয়ে যায় তাঁর পরিচয় গোপনের কৌশল। এ ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একই সময়ে রানিতলা থানার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় বিএসএফ। সেখান থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে পাচারের সময় আটক করা হয়। তাঁদের নাম মহম্মদ কাউসার আলি ও মহম্মদ শাহাবুল ইসলাম। পরবর্তীতে তাঁদের মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জানা গেছে, প্রত্যেকের বাড়ি রাজশাহীর বেরাপাড়া গ্রামে। সূত্রের খবর, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছ থেকেও অনুপ্রবেশ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে।
আরও পড়ুনঃ Astrology: অক্টোবরের ভাগ্য জানাচ্ছেন জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞ, ৫ গ্রহের রাশি পরিবর্তন এই মাসে পদোন্নতি ও অর্থের সম্ভাবনা
তিনজনকেই ইতিমধ্যেই কোতোয়ালি আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুধু অনুপ্রবেশ নয়, ভারতীয় পরিচয় গোপন করে নথি জাল করার মতো একাধিক সংবেদনশীল অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, দল কোনওভাবেই বেআইনি কাজ বরদাস্ত করবে না। যদি তদন্তে দেখা যায় যে দলের কোনো কর্মীর নাম এভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তবে আইনমাফিক কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





