গতকাল ছিল লালুর লাল তেজস্বী যাদবের (Tejaswi yadav) ৩১ তম জন্মদিন। বুথ ফেরত সমীক্ষা বলেছিল আজ অর্থাৎ ১০ই নভেম্বর বিহারবাসী তেজস্বীকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে জন্মদিনের শ্রেষ্ঠ উপহার দিতে চলেছেন। তবে ফের উলট পুরাণ। অর্থাৎ বিহারে সরকার গড়তে চলেছিল মহাগঠবন্ধন সরকার (mahagathbandhan)। বুথ ফেরত সমীক্ষাকে ভুল প্রমাণ করে ফের বিহারে সরকার গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে গেল নীতিশ কুমারের (nitish Kumar) নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA)। এই বারও বিহারে নীতিশ কুমারের জেডিইউ (JDU) সঙ্গে জোট বেঁধেই নির্বাচনী লড়াই লড়তে নেমেছে বিজেপি।
কিন্তু উল্লেখযোগ্য ভাবে দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড তাতে বিহারে একক বৃহত্তম পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলছে বিজেপি। আগামী দিনে সরকার গঠনের বিষয়ে আশাবাদী এনডিএ শিবির। বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় জানিয়েছেন আগামী দিনে তাঁরাই সরকার গঠন করতে চলেছেন। কিন্তু সরকারের নেতৃত্বের বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবেন।
তবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে দলের অন্দরে বেশ জল্পনা চলছে। যদিও বিজয়বর্গীয় জানিয়েছেন, নীতিশ কুমারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তাঁর দলের ও এনডিএ-এর। নির্বাচনের আগেই নীতিশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছিল দলের একটা অংশ। কিন্তু এনডিএ অটুট রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার বলেছিলেন নীতিশ কুমারের নেতৃত্বেই বিহারে নির্বাচনে লড়াই করবে বিজেপি ও এনডিএ জোট।
বর্তমান বিহারের যা পরিস্থিতি তাতে খুব একটা স্বস্তিতে নেই নীতিশ কুমার। চলতি নির্বাচনে তিনি লড়াই করেননি। অন্যবারের মত বিধান পরিষদ থেকে জিতে আসার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। ভোট প্রচারেও বলেছিলেন এটাই তাঁর শেষ ভোট লড়াই। কিন্তু তারপরেও দেখা যাচ্ছে বিহারবাসী কিছুটা হলেও মুখ ফিরেয়ে নিয়েছে তাঁদের তিন বারের মুখ্যমন্ত্রীর দিক থেকে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য, নীতিশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ভোটের বিহারে একাই লড়াই করেছেন রামবিলাস পাসওয়ানের পুত্র চিরাগ পাসওয়ানের (Chirag Paswan) লোক জনশক্তি পার্টি (LJP)। তখনও বিজেপি নেতৃত্ব নীতিশ কুমারের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে গেছে। কিন্তু ফল ভোট গণনাতে দেখা যাচ্ছে নির্বাচনের বিহারে এক বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হয়ে দাঁড়াচ্ছে বিজেপি।
নির্বাচনী প্রচানে তেজস্বী ও চিরাগ দুই যুবনেতারই মূল টার্গেট ছিল নীতিশ কুমার। তেজস্বী বিজেপিকে মাঝেমধ্যে আক্রামণ করলেও চিরাগ বরাবরই প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে গেছেন। ভোটের বাজারে প্রধান শত্রু হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন নিতীশ কুমারকেই।
আর নীতিশের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত কোষী ত্যাগি জানিয়েছেন রামবিলাস পুত্র চিরাগই নীতিশ কুমারের ভোট কেটেছেন।






