ইউক্রেনে আটকে পড়া পড়ুয়ারা কোনও সাহায্য না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এর জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল। আজ, বুধবার বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ যোশী ইউক্রেনে ডাক্তারি পড়তে যাওয়া পড়ুয়াদের কটাক্ষ করে বলেন যে যারা বিদেশে পড়তে যান, তাদের ৯০ শতাংশ এই দেশে ডাক্তারি করার যোগ্যতা নির্ধারক পরীক্ষায় ফেল করেন।
বিজেপি নেতার এমন মন্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, “মোদী সরকার প্রায় ২০ হাজার পড়ুয়াকে তাঁদের নিজেদের দায়িত্বে ছেড়ে দিয়েছে। দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে এখন ইউক্রেনে যাওয়া পড়ুয়াদের উপরে রাগ দেখাচ্ছেন। এটা লজ্জাজনক। এই অসংবেদনশীলতা ক্ষমতার অহঙ্কারের পরিচয়। প্রহ্লাদ জোশীর উচিত পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া”।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ইউক্রেনে এই মুহূর্তে ১৮,০৯৫ জন ভারতীয় ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছেন। ইউক্রেনে পড়তে যাওয়া বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের চারভাগের একভাগই ভারতীয়। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া কেন ইউক্রেনে পড়তে যান?
অভিভাবকদের কথায়, এ দেশে যথেষ্ট সংখ্যক মেডিক্যাল কলেজ নেই। এর ফলে নিট বা ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় পিছনের সারিতে থাকলে পড়ুয়াদের বেসরকারি কলেজে পড়াশোনা করতে হয়। আর অখ্যাত বেসরকারি কলেজেও ডাক্তারি পড়তে ৮০ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়। কিন্তু ইউক্রেনে ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হয় ডাক্তারি পড়তে।
নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে ডাক্তারি পড়ার এ দেশে ডাক্তারি করার জন্য এফএমজিই অর্থাৎ ফরেন মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েটস এগজামিনেশনেএ বসতে হয়। তবে এটাও সত্যি যে তাতে অনেকেই সফল হতে পারে না।
তবে ডাক্তারি করার লাইসেন্স থাকায় একবার না হলেও দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় অনেকে পাশ করেন। তা ছাড়া এ দেশের মতো ইউক্রেনে কোনও প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হয় না। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করাটাও সুবিধাজনক। কোনও বিদেশি ভাষাও শিখতে হয় না।
ইউক্রেনে এই সংকটের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বেসরকারি ক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে এসে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথা বলেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে তেমন লাভ হবে না। কারণ বেসরকারি কলেজে ফি অনেকটা বেশি। এর ফলে পড়ুয়ারা কম খরচে বিদেশে পড়তে যাবেন।
দেশে প্রায় ৫৫৮টি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২৮৯টি সরকারি। এমবিবিএসে প্রায় ৮৩হাজার আসন রয়েছে। পিজি-তে আসনের সংখ্যা রয়েছে ৪২ হাজারের বেশি।






