আজ পুরসভার ফলাফল প্রকাশের দিন। এদিন সকাল থেকেই যা ট্রেন্ড দেখা জাচ্চজে, তাতে রাজ্যে যে ফের সবুজ ঝড় বয়ে গিয়েছে, তা বলাই যায়। ১০৮টি পুরসভার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৫৫টিরও বেশি আসন ঘাসফুল শিবিরের দখলে। তবে সময় এখনও বাকি। দাঁত কামড়ে পড়ে রয়েছে বিরোধীরা।
এরই মধ্যে ঝালদা পুরসভায় দেখা গেল এক অন্য চিত্র। এই পুরসভায় পাঁচটি ওয়ার্ডে জিতেছে তৃণমূল, পাঁচটি ওয়ার্ডে জিতেছে কংগ্রেস ও দুটি ওয়ার্ড দখল করেছে নির্দল পার্টি। এমন অনেক ওয়ার্ডই রয়েছে যেখানে দেখা গিয়েছে যে জিত ছিনিয়ে নিয়েছেন নির্দল প্রার্থীরা।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই নির্দল প্রার্থীদের অনেকেই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতা যারা পুরভোটের টিকিট না পেয়ে নির্দলের হয়ে লড়েছেন। এসবের মধ্যেই উঠে এল আরও এক ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, নির্দলের হয়ে জিতেই তৃণমূলে ওয়াপসি করছেন সেই প্রার্থীরা। তবে ভোটের আগে যে তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছিল যে যারা দল ছেড়ে নির্দলের হয়ে লড়বেন, তাদের ছ’বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে, সেই সিদ্ধান্তের কী হল?
ইতিমধ্যেই এমন অনেক নির্দল প্রার্থী যারা পুরভোটে জিতলেন, তারা তৃণমূলে ফেরত গিয়েছেন না অনেকেই ফেরত যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। তাহলে তাদের এখন কেন ফিরিয়ে নিচ্ছে দল? তৃণমূলের নীতি এখন কোথায়? এমন নানান প্রশ্ন উঠছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সবটাই কী তবে জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য তৃণমূলের চক্রান্ত? নির্দলের হয়ে জিতে এরপর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার অর্থ সেই ওয়ার্ড তৃণমূলের হাতে চলে যাওয়া। এইভাবে প্রায় সমস্ত ওয়ার্ডই নিজেদের দখলে রাখার জন্যই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি তো মমতার দলের তরফে? এমন বিষয় এখনও স্পষ্ট না হলেও, নানান ঘটনা যে সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।, তা বলাই বাহুল্য। এদিকে বিরোধীদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে যে আগামীদিনে বাকি জয়ী নির্দল প্রার্থীরাও তৃণমূলে যোগ দেবেন। ভবিষ্যতে কী হয়, এখন সেটাই দেখার।
তবে যদিও তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন যে জয়ী নির্দল প্রার্থীদের দলে ফেরানো হবে কী না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দল। আপাতত তারা নির্দলের হয়েই থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।





