রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন যে তাদের নবান্ন অভিযানের উপর আক্রমণ করেছেন, এ কথা আগেই জানিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। করোনার সমস্তরকম বিধিনিষেধ মেনে বিজেপিকে অভিযান করার পরামর্শ দেওয়া হয় রাজ্যের তরফ থেকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও হাওড়ায় বিভিন্ন দিক থেকে বিজেপির এই মিছিল আটকানোর জন্য চারিদিকে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেয় পুলিশ। কিন্তু বিজেপি দল নিজের জায়গায় ছিল অনড়। এই ব্যারিকেড পেরিয়ে এগোতে গিয়েই শুরু হয় পুলিশের লাঠিচার্জ। এরই মধ্যে মিছিলে পড়ে বোমা, শুরু হয় ইট পাথর ছোঁড়া। পুলিশের তরফ থেকে মিছিল আটকানোর জন্য চলতে থাকে রাসায়নিক রঙ মেশানো জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেল।
রাজ্য প্রশাসনের এই ভূমিকা নিয়েই সরব হন বিজেপির একাধিক নেতা নেত্রী। অভিযোগ উঠে তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর পুলিশের বর্বর আক্রমণ নিয়ে। পুলিশের এই অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে জোড়াসাঁকো থানায় হাজির হন বিজেপি যুব মোর্চার কেন্দ্রীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্য। সেখানে গিয়েও মিছিলকারী নেতাদের পুলিশের তরফে হুমকি, গালিগালাজ ও নিগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। থানায় বসেই তেজস্বী সূর্য একের পর পর টুইটের মাধ্যমে রাজ্যের পুলিশের প্রতি নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন।
https://twitter.com/Tejasvi_Surya/status/1314245655460683782
বৃহস্পতিবার রাতে বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি তেজস্বী সূর্য-সহ অন্যান্য বিজেপি সমর্থক, সাংসদরা জোড়াসাঁকো থানায় রাজ্য পুলিশের অব্যবহারের জন্য অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন সেখানকার পুলিশ। এই বিষয়ে তেজস্বী টুইট করে জানান যে, তারা জোড়াসাঁকো থানায় অপেক্ষারত। কিন্তু উপরমহলের আদেশ না আসা পর্যন্ত পুলিশ তাদের অভিযোগ নিতে রাজি হচ্ছে না। তারা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে থানায় অপেক্ষা করছেন কিন্তু তখনও কোনওরকমের অ্যাকশন নেওয়া হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে।
https://twitter.com/Tejasvi_Surya/status/1314253575367782400
এরপরের টুইটে তিনি লেখেন যে, “বাংলার তরুণরা জোড়াসাঁকো থানার বাইরে জড়ো হয়েছে। পুলিশের কাছে এখন দুটো পথই খোলা আছে, হয় তিনি আইনি পথে আমাদের অভিযোগ দায়ের করবেন নয়তো নিজের উর্দি খুলে তৃণমূল শিবিরের পতাকা নিজের হাতে তুলে নেবেন।”
https://twitter.com/Tejasvi_Surya/status/1314260714802966530
নিজের তৃতীয় টুইটে তিনি পুলিশের জুলুমের একটি ভিডিও শেয়ার করে জানান, “মমতার রাজ্যের থানাগুলো এখন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। পুলিশ এখনও রাজ্য প্রশাসনের জ্ঞানীয় অপরাধের জন্য করা আমাদের অভিযোগ নেন নি। বাংলার আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।“
তার এই টুইট দেখে গর্জে উঠে বিজেপির কর্মকর্তারা। পুলিশ যে কার্যত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতের পুতুল হয়ে পড়েছে, সে অভিযোগও করেছেন প্রতিবাদী নেতারা। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন বিজেপি অনুগামীরাও। কেউ কেউ আবার বলেছেন, মমতা সরকারের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে যুব মোর্চার সভাপতি তেজস্বী সূর্যই হলেন কাণ্ডারি।
এদিকে, লোকসভার তিন সাংসদ তেজস্বী সূর্য, নিশিথ প্রামাণিক ও জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো জানিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের এই অভব্য আচরনের বিরুদ্ধে তারা লোকসভায় অভিযোগ জানাবেন।





