বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ অভিনেতা অক্ষয় কুমার। নিয়ম মেনে চলাই তাঁর জীবনের বড় শক্তি বলে মনে করেন অনেকেই। ভোরবেলা উঠে যোগব্যায়াম করা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট সময় মেনে খাওয়া দাওয়া, সব কিছুতেই তিনি কঠোরভাবে রুটিন মেনে চলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য হিট ছবির পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তাঁর সাফল্যের কথা প্রায়ই শোনা যায়। সেই কারণেই অনেকেই বলেন, অক্ষয় শুধু অভিনেতা নন, তিনি একাধারে সফল ব্যবসায়ীও। তবে এত সাফল্য আর ব্যস্ততার মাঝেও জীবনে একটি আক্ষেপ যে থেকে গেছে, সে কথাই এবার খোলাখুলি জানালেন বলিউডের এই তারকা।
স্ত্রী টুইঙ্কল খান্না এবং দুই সন্তানকে নিয়ে অক্ষয়ের পরিবার যথেষ্ট সুখের বলেই মনে করেন ভক্তরা। মুম্বইয়ের বিলাসবহুল বাংলোয় পরিবারকে নিয়ে তাঁর জীবন যেন ছবির মতোই সুন্দর। তবে বাস্তবের ব্যস্ততা এই সুখের ছবিতে মাঝেমধ্যে ফাঁক তৈরি করে দেয়। বিশেষ করে তাঁর ছেলে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে পড়াশোনা ও নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। ফলে পরিবারকে একসঙ্গে পাওয়া খুব সহজ হয়ে ওঠে না। এই দূরত্বই মাঝেমধ্যে অভিনেতার মনে এক অদ্ভুত শূন্যতার অনুভূতি তৈরি করে।
অক্ষয় নিজেও বছরের বেশির ভাগ সময় কাজের জন্য ব্যস্ত থাকেন। একের পর এক ছবির শুটিং, প্রচার এবং নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুবই কম পান তিনি। অভিনেতার কথায়, বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রায় ১২০ দিনই তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেন। তাঁর মতে, একটি পরিবারের জন্য এই সময়টা খুবই কম। তাই সুযোগ পেলেই তিনি চেষ্টা করেন পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে এবং তাঁদের সঙ্গে সাধারণ মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে।
অক্ষয়ের মতে, জীবনে যতই সাফল্য আসুক না কেন, তার আসল মূল্য বোঝা যায় তখনই যখন সেই সাফল্য ভাগ করে নেওয়ার মতো মানুষ পাশে থাকে। খ্যাতি, অর্থ কিংবা জনপ্রিয়তা মানুষের জীবনে অনেক কিছু এনে দেয় ঠিকই, কিন্তু প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সময়ের বিকল্প কিছুই হতে পারে না। সেই কারণেই নিজের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও পরিবারকে সময় দেওয়ার গুরুত্ব বারবার তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Narendra modi : বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে যুদ্ধে*র আবহে, তার মাঝেই মোদি সরকারের আশ্বাস—“দেশে তেল-গ্যাসের দামে চাপ পড়তে দেব না”!
বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা মনে করেন, জীবনের আসল সাফল্য শুধু অর্জনের হিসাব দিয়ে মাপা যায় না। বরং একজন মানুষ তাঁর প্রিয় মানুষদের জন্য কতটা সময় বের করতে পারছেন, সেটাই আসল মাপকাঠি। তাই যত ব্যস্ততাই থাকুক, পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছাই এখন অক্ষয় কুমারের সবচেয়ে বড় চাওয়া।





