সংসদে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে এবার বেকায়দায় মহুয়া মৈত্র! তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে কেন্দ্র

কৃষ্ণনগরে তৃণমূল সাংসদ এমনিতেই একটু ব্যতিক্রমী চরিত্র। অতিরিক্ত স্পষ্ট বক্তব্যের যেরে বরাবরই বিতর্ক তৈরি করেন তিনি। এবার ফের একবার সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন মহুয়া। তাঁর আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস আনার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করার জন্যই কৃষ্ণনগরের সাংসদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হতে পারে৷ সংসদে মহুয়ার বক্তব্য চলাকালীনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে উঠে দাঁড়িয়ে তার তীব্র প্রতিবাদ করেন৷ তাঁরা অভিযোগ করেন, আগে থেকে নোটিস না দিয়ে এ ভাবে সংসদে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে আলোচনা করা যায় না৷ প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মহুয়ার মন্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন অর্জুন রাম মেঘওয়াল৷

উল্লেখ্য, গতকাল অর্থাৎ সোমবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল৷ সেই সময়ই মহুয়ার রাখা বক্তব্য নিয়ে তীব্র হইচই শুরু হয় সংসদে৷ কৃষ্ণনগরের সাংসদের মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে সরব হন বিজেপি সাংসদরা৷ অধ্যক্ষের চেয়ারে থাকা আরএসপি সাংসদ এন কে প্রেমচন্দ্রনও বলেন, মহুয়ার বক্তব্য আপত্তিকর বলে প্রমাণিত হলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে৷

গতকাল সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী সরকারকে তীব্র সমালোচনা করেন মহুয়া৷ তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী কণ্ঠকে চুপ করাতে ঘৃণা এবং প্রতিশোধস্পৃহার পথে হাঁটছে সরকার৷ শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি দেশের বিচারব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যমকেও কাঠগড়ায় তোলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ৷ মহুয়া বলেন, ‘ভারতের দুর্ভাগ্য হল যে শুধু দেশের সরকার নয়, বিচারব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের মতো গণতন্ত্রের অন্যান্য স্তম্ভগুলিও ব্যর্থ হয়েছে৷ বিচারব্যবস্থার পবিত্রতাও নষ্ট হয়েছে৷ যেদিন দেশের প্রধান বিচারপতি নিজের পদে থাকাকালীনই যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত হয়ে নিজেই নিজের বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হয়েছিলেন, এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত করে অবসরের তিন মাসের মধ্যে জেড প্লাস নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন, সেদিনই বিচারব্যবস্থা তার পবিত্রতা হারিয়েছিল৷’ মহুয়া আরও বলেন, ‘সংবিধানের মূল ভিত্তিগুলিকে রক্ষা করার সুযোগ পেয়েও যখন বিচারব্যবস্থা তা করেনি, তখনও তার পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে৷’

একইসঙ্গে মহুয়া অভিযোগ করেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসকে নিয়ে বাংলায় রাজনীতি করছে বিজেপি। যদি রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি বিজেপি‌ই আদর্শে হয়ে থাকে তাহলে কেন‌ও ধর্মের রাজনীতি করছে তাঁরা? এই দুই মহান ব্যক্তিত্ব কখনোই ভারতকে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মের বিভেদে ভাগ করার শিক্ষা দেয়নি। শুধুমাত্র বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন বলে বাংলার মনীষীদের প্রতি বিজেপির এই আদিখ্যেতা নিন্দনীয় বলে‌ও অভিযোগ করেন তিনি।

তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় অবশ্য যুক্তি দেন, বক্তব্যে কারও নাম নেননি মহুয়া মৈত্র৷ শেষ পর্যন্ত মহুয়া মৈত্রকে তাঁর বক্তব্য শেষ করার অনুমতি দিলেও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা সেই সংক্রান্ত কোনও মন্তব্য করতে নিষেধ করেন অধ্যক্ষ৷ তবে মহুয়ার এই মন্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস আনার কথা কেন্দ্রীয় সরকার৷

RELATED Articles