সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামগুলিতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ছে। দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা আরও শক্ত করতে কেন্দ্র সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্যের প্রশাসনকে নির্দিষ্ট নির্দেশ পাঠিয়েছে—ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা অবৈধ ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নিতে হবে। হঠাৎ এই নির্দেশ জারি হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, সীমান্ত এলাকায় অনুমতি ছাড়া তৈরি মন্দির, মসজিদ বা অন্যান্য ধর্মীয় কাঠামো প্রায়ই সমস্যার মূল হয়ে ওঠে। এসব স্থাপনাকে ঘিরে জমি দখল, অবৈধ বসতি বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ বাড়ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়—অনেক ক্ষেত্রে এই অবৈধ স্থাপনা সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস, চোরাচালান বা অনুপ্রবেশের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। পরিস্থিতি চিন্তা করেই কেন্দ্র এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীর থেকে শুরু করে পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও মণিপুর—সব সীমান্তবর্তী রাজ্যকেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। রাজ্যগুলিকে বলা হয়েছে, সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার এলাকায় থাকা সব অবৈধ ধর্মীয় স্থাপনার তালিকা তৈরি করে প্রশাসন, পুলিশ ও বিএসএফ-এর যৌথ অভিযানে এগুলি ধ্বংস করতে হবে। কেন্দ্র পরিষ্কার জানিয়েছে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে যাতে ভাঙার কাজের সময় আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি না ঘটে।
কেন্দ্রের এই নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তুঙ্গে। শাসক দলের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; দেশের সীমান্তে কোনো অবৈধ কাঠামো বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত আসলে ধর্মীয় আবেগে আঘাত করার চেষ্টা। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক উস্কে দিতে পারে। মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ আবার বলছেন, ভাঙার পাশাপাশি প্রভাবিত পরিবারগুলির পুনর্বাসনের বিষয়েও নজর দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ Se*x Racket: ধর্ষ*ণ ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে এল যৌ*নপাচার চক্র! ধৃত চার, উদ্ধার তিন মহিলা!
অনেক সীমান্তবর্তী গ্রামে দেখা যায়, ছোট ছোট মসজিদ, মন্দির বা আশ্রম অনুমতি ছাড়াই সামাজিক বা সরকারি জমিতে তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এতদিন রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপের কারণে সেগুলো ভাঙতে পারেনি। এবার কেন্দ্রের নির্দেশে তাদের আর পিছু হটার সুযোগ নেই। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত অঞ্চলে অবৈধ কার্যকলাপের পথ অনেকটাই বন্ধ হবে। দেশজুড়ে নিরাপত্তার নীতিতে এটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রভাব আগামী দিনে সীমান্ত রাজ্যগুলিতে স্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে।





