এক নৃশংস ঘটনার তদন্তে এমন এক চিত্র সামনে এসেছে যা নাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসনকেও। এক কিশোরীকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করার পর শুরু হয়েছিল পুলিশি তদন্ত, কিন্তু সেই তদন্তের পথেই উন্মোচিত হয় অপরাধচক্রের আঁতুড়ঘর। দিন কয়েকের মধ্যেই ওই ঘটনার সূত্র ধরে উঠে আসে পাচার ও যৌন ব্যবসায় জড়িত এক পুরো নেটওয়ার্কের হদিস। তদন্ত যতই এগিয়েছে, ততই শিউরে উঠেছে গোটা শহর।
শুক্রবার রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দানা বাঁধে পুরো রহস্য। এক তরুণীকে হাসপাতালে ফেলে রেখে পালায় কিছু মানুষ। কর্মীরা তাঁকে ওই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষা করে জানান, মেয়েটির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট। কেসটি তখনই গুরুতর আকার নেয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে, আর সেইখানেই মেলে প্রথম সূত্র – একজন সন্দেহভাজনের চেহারা ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
সেই সূত্র ধরে শনিবার অভিযান চালায় পুলিশ। এবার ঘটনাস্থল — ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরের লক্ষ্মীনগর এলাকা। গোপন সূত্রের খবর ছিল, ওই অঞ্চলের একটি বাড়িতে বেশ কিছুদিন ধরেই রমরমিয়ে চলছে নারীপাচার ও যৌনচক্রের ব্যবসা। হঠাৎ করেই পুলিশ সেখানে হানা দিলে চমকে ওঠে সবাই। অভিযানে তিন মহিলাকে উদ্ধার করা হয় এবং চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের নাম মঞ্জু শেঠি, মমতা সাহু, সঞ্জীবকুমার দাস এবং অবিনাশ মুদুলি।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও বিস্ময়কর তথ্য। পুলিশের অনুমান, ধৃতদের মধ্যে মঞ্জু শেঠি, মমতা সাহু এবং সঞ্জীবকুমার দাস এই পাচারচক্রের মূল উৎস। আর মুদুলিই সম্ভবত কিশোরীর ওপর নির্যাতনের মূল অভিযুক্ত। পুলিশ কমিশনার এস দেবদত্ত সিংহ জানিয়েছেন, হাসপাতালের সিসিটিভিতেই ধৃত মুদুলিকে একাধিকবার দেখা গেছে এবং তার থেকেই লক্ষ্মীনগরের ওই বাড়ির হদিস মেলে। এরপরেই চক্রের সম্পূর্ণ বিরোধিতা নেমে আসে পুলিশের ওপর।
আরও পড়ুনঃ Amit Shah Attacks Mamata Banerjee: “বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের স্বাগত জানানো হচ্ছে ভোট ব্যাঙ্ক তৈরির জন্য!” অমিত শাহের সরাসরি অভিযোগ মমতা সরকারের বিরুদ্ধে! ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি বন্ধ করতে দিদি সরকার ফেলে দেওয়ার ডাক!
কিশোরীটিকে দেহব্যবসায় নামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কিনা, তা নিয়েও চলছে তদন্ত। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে যা তথ্য মিলেছে, তাতে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, আর পুলিশও কড়া নজরদারি শুরু করেছে। আপাতত চার অভিযুক্তকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার তিন মহিলাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে।





