আগে দেশ বাঁচুক তারপর রপ্তানি! সেরাম ইনস্টিটিউটের ৫০ লক্ষ ভ্যাকসিন রপ্তানির আবেদন খারিজ কেন্দ্রের

অক্সিজেন, ওষুধ, প্রতিষেধক সব কিছুরই অভাব রয়েছে দেশজুড়ে। চলছে ব্যাপক পরিমাণ কালোবাজারি। মহামারীর দ্বিতীয় ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতীয় জনজীবন। কাতারে কাতারে মৃত্যু। এরইমধ্যে চোখ রাঙাচ্ছে করোনার তৃতীয় ঢেউ।

দেশে অধিকাংশের এখন‌ও হয়নি টিকাকরণ। কারণ টিকার অপ্রতুলতা। এই পরিস্থিতিতে সেরামের কোভিশিল্ড রফতানির আবেদন খারিজ করল কেন্দ্র।

ব্রিটেনে ৫০ লক্ষ ডোজ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেছিল সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। সিরামের তরফে এই নিয়ে বেশ কয়েকবার কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনাও হয়। কিন্তু, আন্তর্জাতিক চাপকে কার্যত উড়িয়ে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের এই চরম অবস্থায় কোন রপ্তানি হবে না।  প্রথমে ভারতীয়দের ভ্যাকসিনের জোগান দিতে হবে। তারপর অন্যদের।

কিছুদিন কেন্দ্রের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় এবার থেকে রাজ্যগুলি প্রতিষেধক প্রস্তুতকারী সংস্থা থেকে নিজেদের প্রতিষেধক সংগ্রহ করতে পারবে। ‌ এই অবস্থায় এখন এই ৫০ লক্ষ কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের জোগান রয়েছে। রাজ্যগুলিকে বলা হয়েছে তা সংগ্রহ করে নিতে। বেসরকারি হাসপাতালও তা নিতে পারবে।

আরও পড়ুন- করোনা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের! এবার সমস্ত হাসপাতালেই ‘র‍্যাট’ পদ্ধতিতে হবে করোনা পরীক্ষা

প্রসঙ্গত, এপর্যন্ত দেশে ভ্যাকসিনের ১৭ কোটি ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭৬১ ডোজ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সি ৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৭৯ জনকে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এবং তৃতীয় দফার টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২৫ লক্ষ ৫২ হাজার ৮৪৩ ডোজ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন- ফের মানবিক সোনু! করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে ফ্রান্স থেকে অক্সিজেন প্লান্ট আনছেন অভিনেতা

ভারতে এই মুহুর্তে দুটি প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে। একটি কোভিশিল্ড এবং অপরটি কোভ্যাকসিন। কোভিশিল্ড তৈরি করছে সিরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং কোভ্যাকসিন তৈরি করছে ভারত বায়োটেক। এছাড়া সম্প্রতি দেশে এসে পৌঁছেছে রাশিয়ার স্পুটনিক ভি।‌ এই ভ্যাকসিন তৈরি করবে পাঁচটি সংস্থা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গত বছর থেকেই বছর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন হোক বা কোভিশিল্ড বিভিন্ন দেশকে ওষুধ, প্রতিষেধক পাঠিয়ে সাহায্য করেছে ভারত। কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতের নিজেরই টালমাটাল অবস্থা। আর তাই কোন‌ও দেশকে সাহায্যের পরিবর্তে এখন নিজের ঘর বাঁচানোই শ্রেয় বলে মনে করেছে কেন্দ্র।

RELATED Articles