আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে দিন দিন উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শুল্ক নীতি নিয়ে বিভিন্ন দেশকে রীতিমতো চাপে রাখছেন, অন্যদিকে এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশ ভারত ও চিন নিজেদের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ গড়ে তুলতে চাইছে। এর মধ্যেই চিনের এক বিশেষজ্ঞ এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা শুধু ট্রাম্পকেই নয়, পরোক্ষভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও খোঁচা দিয়ে গেল।
বেজিংয়ের তাইয়ে ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আইনার তানজেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে বলেন, ট্রাম্পের এই নীতি স্রেফ “গুন্ডামি।” তাঁর কথায়, “ক্লাসের সবচেয়ে বড় পড়ুয়া অন্যদের ক্লাসে ঢুকে লাঞ্চের টাকা চুরি করছে।” অর্থাৎ, বিভিন্ন দেশের উপর অযৌক্তিক শুল্ক চাপিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প দাবি করছেন আমেরিকা কোনও ধরনের জোরজবরদস্তি করছে না, অথচ বাস্তবে পরিস্থিতি একেবারেই উল্টো।
চিনা বিশেষজ্ঞ উপহাস করে আরও জানান, ট্রাম্প যে শুল্কের তালিকা তৈরি করেছেন, তাতে এমন কিছু দ্বীপও রয়েছে যেখানে মানুষ তো দূরের কথা, কেবলমাত্র পেঙ্গুইন থাকে। যেমন, অস্ট্রেলিয়ার হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড আইল্যান্ড। তাঁর মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসলে কূটনীতির নামে হাস্যকর পদক্ষেপ করছেন। বিশ্বব্যাপী ১৮০টিরও বেশি দেশকে চিঠি পাঠিয়ে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া কোনওভাবেই যুক্তিযুক্ত নয় বলেই তিনি মন্তব্য করেন।
শুধু অর্থনৈতিক বিষয়েই নয়, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়কার যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়েও ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেন চিনা বিশেষজ্ঞ। তাঁর দাবি, ট্রাম্প নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে এই চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনও মুখ্য ভূমিকা ছিল না। বরং যে যুদ্ধগুলোকে ট্রাম্প নিজের কৃতিত্বে শেষ হয়েছে বলে দাবি করেন, সেগুলোর প্রতিটিই এখনও চলমান।
আরও পড়ুনঃ Actress death : শোকের ছায়া বিনোদন জগতে! মাত্র ৩৮ বছরেই না ফেরার পথে সুশান্ত সিং রাজপুতের সহ অভিনেত্রী!
এই সমস্ত মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন চিন সফরে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকের ফাঁকেই শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেরেছেন তিনি। সেখানে মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত-চিন সম্পর্ক তৃতীয় কোনও দেশের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হবে না। কূটনৈতিক মহলের মতে, এ মন্তব্যে ইঙ্গিত পরিষ্কার ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও তাঁর আগ্রাসী অবস্থানই আসলে ভারত-চিনকে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ট্রাম্পকে একহাত নিয়ে একইসঙ্গে মোদীকেও নাম না করে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না চিনা বিশেষজ্ঞ।





