পড়শি দেশ যখন সন্ত্রাসের ঘৃণ্য ছায়া মেলে ধরে নিরীহ প্রাণ কাড়ে, তখন দেশের মাটিতে বসেই কেউ সেই হামলার ‘উৎসব’ পালন করেন— এই ভাবনাটাই গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। পহেলগাঁও হামলায় নিহত পর্যটকদের স্মৃতিতে দেশ যখন নীরবে শোক পালন করছে, সেই সময়েই এমন এক ঘৃণ্য উল্লাস দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ঘটনাটি যেন কেবল আইনি অপরাধ নয়, সামাজিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধেও এক চরম আঘাত।
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়া হয়ে উঠেছে মত প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম। কিন্তু সেই সুযোগকে হাতিয়ার করে কেউ যদি সন্ত্রাসকে সমর্থন করে, তাহলে তা শুধুই অপরাধ নয়— তা গোটা সমাজকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়। পহেলগাঁওয়ে (Pahalgam) পর্যটকদের উপরে জঙ্গি হামলার পরে এক মৌলবির পোস্ট ঘিরে ঠিক তেমনই আলোড়ন তৈরি হয়েছে। নিজের ‘ধন্যবাদ বার্তা’তে পাকিস্তান ও লস্কর-ই-তইবার নাম নিয়ে, এমনকি কিছু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনকে টার্গেট না করায় ‘দুঃখ’ প্রকাশ করেন তিনি। সঙ্গে হেসে ফেলার ইমোজি— যেন মৃত্যুর মিছিলে গা-ভাসানো উৎসব!
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, যখন পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর ভয়াবহ হামলা চালায় জঙ্গিরা। হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্করের শাখা সংগঠন TRF। ঠিক সেই রাতে ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার মখদুমপুর থেকে মৌলবি মহম্মদ নৌশাদ ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে লেখেন— “ধন্যবাদ পাকিস্তান, ধন্যবাদ লস্কর ই তইবা। আল্লাহ তোমাদের আনন্দে রাখুন।” শুধু তাই নয়, তিনি লেখেন, “আরও খুশি হতাম যদি আরএসএস, বিজেপি, বজরং দল ও মিডিয়াকে আক্রমণ করা হত।” এই ঘৃণ্য পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় সোশালে।
নেটমাধ্যমে এই উসকানিমূলক পোস্ট নজরে আসতেই সরব হয় নেটিজেনরা। ঝাড়খণ্ড পুলিশকে ট্যাগ করে অবিলম্বে গ্রেপ্তারির দাবি তোলা হয়। পুলিশ সুপার মনোজ স্বার্গীয়ারীর নির্দেশে নবীন কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে গঠিত হয় বিশেষ তদন্তকারী দল। রাতভর অভিযান চালিয়ে বুধবার সকালে বোকারো থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত মৌলবি নৌশাদকে। জানা যায়, অভিযুক্ত বিহারের এক মাদ্রাসা থেকে কোরানের উপরে ডিগ্রি প্রাপ্ত। সোশাল মিডিয়ায় নিজের ভাইয়ের দুবাইয়ের সিমকার্ড ব্যবহার করতেন তিনি।
আর পড়ুনঃ Pahalgam terror attack : পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর আকাশে হঠাৎ করেই পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান! আবার কি সীমান্তে যুদ্ধের সম্ভাবনা?
এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এখন চলছে থানায় টানা জেরা। নিরাপত্তারক্ষীরা খতিয়ে দেখছেন, শুধুই ব্যক্তিগত মত প্রকাশ, না এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র? পাশাপাশি তদন্তকারীদের অনুমান, অভিযুক্তের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, ধর্মীয় উস্কানি কতটা ভয়ানক হতে পারে— শুধু দেশের ভেতরেই নয়, মানসিকতার ভিতরেও।






