সামনেই বাদল অধিবেশন। এই অধিবেশনেই লোকসভায় পরিষদীয় দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে অধীর চৌধুরীকে। বেশ কিছুদিন ধরেই দিল্লির রাজনীতি মহলে এমন গুঞ্জন মাথা চাগাড় দিয়েছে।
শুধু তাই-ই নয়, সংসদের নিম্নকক্ষে পরিষদীয় দলনেতার খোঁজও শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস হাই কমান্ড, এমনও জানা গিয়েছে। অধীরের ছেড়ে যাওয়া পদে পরবর্তীতে কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নাম উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন- কেন্দ্রীয় প্রকল্প চুরি করছে রাজ্য, অভিযোগ তুলে দিল্লি যাওয়ার পথে শুভেন্দু
সূত্রের খবর, আগামীকাল, বুধবার অধীর চৌধুরীর সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক করতে চলেছেন সোনিয়া গান্ধী। ভার্চুয়াল মাধ্যমেই হবে এই বৈঠক। আগামী ১৯শে জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন। সেই অধিবেশনের আগে যে এই বৈঠক বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
উনিশের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভয়াবহ বিপর্যস্তের পর দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত বছর। বিক্ষুব্ধ শীর্ষ নেতারা কংগ্রেসের হাই কমান্ডকে চিঠি লিখে ক্ষোভের কথা জানান। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেই সমস্ত বিক্ষুব্ধ শীর্ষ নেতাদের মধ্যেই একজনকে লোকসভায় কংগ্রেসের মুখ হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে।
তবে লোকসভায় কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা হওয়ার দৌড় থেকে আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন রাহুল গান্ধী। এই পদের জন্য দুজনের নাম বেশি চর্চায় রয়েছে। একজন হলেন শশী থারুর ও অন্যজন মণীশ তিওয়ারি। এরই সঙ্গে নাম উঠে আসছে রভনীত সিং বিট্টু, গৌরব গগোই, উত্তম কুমার রেড্ডিরও।
তবে এদের মধ্যে শশী থারুর ও মণীশ তিওয়ারির সম্ভাবনা প্রবল। এঁরা দুজনেই সেই সমস্ত বিক্ষুব্ধ শীর্ষ নেতাদের মধ্যে পড়েন, যারা হাই কমান্ডকে চিঠি লিখেছিলেন। তবে লোকসভায় কংগ্রেসের মুখ যেই হন না কেন, তা ঠিক করবেন হাই কমান্ড নিজেই।
আরও পড়ুন- আলোচনার পরিসর নেই ভারতে, করোনাকালে বিপদ বাড়ছে গরীবের, নাম না করেই মোদীকে দুষলেন অমর্ত্য সেন
তবে অধীরকে এই পদ থেকে সরানোর কারণ নিয়ে নানান মহলে নানান গুঞ্জন উঠেছে। একাংশের মতে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় কংগ্রেসের ফলাফল শোচনীয়। এই কারণেই দলনেতার পদ থেকে সরানো হচ্ছে বহরমপুরের সাংসদকে। আবার অন্য অংশের দাবী, কংগ্রেসেও এবার এক ব্যক্তি এক পদ নীতি শুরু হতে পারে। এই কারণেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদে থাকা অধীরকে লোকসভার দলনেতার পদ থেকে সরাতে পারে হাই কমান্ড।





