গরমে যেন একটু স্বস্তি এসেছিল। শীত-গ্রীষ্ম ঘুরে করোনা (Covid) যেন অনেকটাই স্তিমিত হয়েছিল দেশজুড়ে। কিন্তু ফের সেই অচেনা আতঙ্ক ফিরে আসছে। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা সংক্রমণ। রাস্তাঘাটে, বাজারে আগের মতোই ভিড় বাড়ছে। কেউ আর মাস্ক পরছেন না, সতর্কতাও শিথিল। এমন পরিস্থিতিতেই ফের চোখ রাঙাতে শুরু করেছে মারণ ভাইরাস। এই মুহূর্তে দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ছুঁইছুঁই। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের।
কোথায় বাড়ছে সংক্রমণ?
অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল সচেতনতার অভাব। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। দেশের মধ্যে কেরল, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে কেরলের অবস্থা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল পর্যন্ত দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ হাজার ৭৫৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯১ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের।
রাজ্য অনুযায়ী সংক্রমণের ছবি
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, কেরলে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গুজরাটে ১০২ জন, দিল্লিতে ৭৩ জন এবং পশ্চিমবঙ্গে ২৬ জনের শরীরে মিলেছে করোনার উপস্থিতি। তবে কিছু রাজ্যে এখনই বিশেষ চিন্তার কারণ নেই। অরুণাচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, মিজোরাম, ত্রিপুরাতে নতুন করে কোনও সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। এই পরিসংখ্যান দেখে চিকিৎসকদের একাংশ মনে করছেন, সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও আগের মতো মারণ রূপ নেই ভাইরাসটির।
নতুন ভ্যারিয়েন্ট কতটা বিপজ্জনক?
এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—নতুন করে ছড়ানো করোনা ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক? ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব ভাল জানিয়েছেন, দক্ষিণ এবং পশ্চিম ভারতের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে জানা গেছে, এটি ওমিক্রনের একটি ভ্যারিয়েন্ট। অর্থাৎ, এটি তুলনামূলক কম মারণ ক্ষমতার। তবে একে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। কারণ, ভাইরাসের চরিত্র বদলাতেও সময় লাগে না।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari in Sandeshkhali: “তৃণমূলের তোষণের রাজনীতিতে হিন্দু রক্ত ঝরছে, শাহজাহানের দাদাগিরি অতীত করেছি”— বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী সন্দেশখালিতে!
কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?
সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত দেখে চিকিৎসা মহলের একাংশ আশঙ্কা করছেন, হয়তো পুরনো কোভিড বিধি ফের চালু করা হতে পারে। জনবহুল স্থানে মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা—এগুলি ফের বাধ্যতামূলক হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিক ও যাঁদের আগেই কো-মর্বিডিটি রয়েছে, তাঁদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, নতুন করে করোনার ঢেউ এলে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শই দেওয়া হয়েছে।





