কাশ্মীর নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যের দরুণ এবারে পাক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এই অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে শনিবার মামলা করলেন সুধীর কুমার ওঝা নামে এক আইনজীবী৷ বিহারের মুজফ্ফরনগরের এক আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি৷ সেই ব্যক্তি জানান যে, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সমাবেশে কাশ্মীর নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন৷ যার দরুন নষ্ট হতে পারে দেশের একতা। তাই মামলাকারী সুধীর কুমার ওঝা চান যেন তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পাক প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়৷ তিনি স্পষ্টই জানিয়েছেন যে, ইমরান খান তাঁর বক্তব্যে ভারতকে রাষ্ট্রপুঞ্জে দাঁড়িয়েও পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন। সঙ্গে তিনি জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে ভারত বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন তা বিঘ্ন ঘটাতে পারে দেশের সংহতিতে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে শুধুমাত্র ভারতকে বিঁধতে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুন সময় নিয়ে নেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ অতিরিক্ত সময় নেওয়ার পরই বক্তব্য রাখতে গিয়ে খেই হারান তিনি৷ গোটা বক্তব্যে আগাগোড়া ভারতকে দোষারোপ করতে গিয়ে ইমরান খান তাঁর বক্তব্যকেই ঠিক জমাতে পারেননি। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে ভারত প্রধানমন্ত্রী শান্তি এবং সম্প্রিতীর বার্তা দিলেও পাক প্রধানমন্ত্রীর তা বিশেষ পছন্দ হয়নি। উল্টে এই নিয়ে নমো-কে কটাক্ষ করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে তিনি উস্কানিমূলক মন্তব্য করে বলেন যে, জম্মু কাশ্মীরে যে কারফিউ জারি রয়েছে তা অমানবিক। অনেক কাশ্মীরিদের ভারত সরকার গৃহবন্দী করে রেখেছে তাদের ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন। ভারত সরকার কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচার, অবিচার করছে, অবিলম্বে তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন৷ ভারতের রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও বিজেপি এবং আরএসএস কে মন্তব্যে বিঁধেন ইমরান খান৷ এর জন্য তিনি হাতিয়ার করেন কংগ্রেসকে।

যদিও পাক প্রধানমন্ত্রীর এহেন উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য জবাব দিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট অফিসার বাঙালী তনয়া বিদিশা মৈত্র। এক্ষেত্রে ভারত ব্যবহার করেছে “রাইট টু রিপ্লাই” এর ক্ষমতা। বিদিশা মৈত্রের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে জবাবের সম্মুখে বেশ অসহায় দেখিয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কে। ভারতের জবাবে যথেষ্টই বিভ্রান্ত হয়েছেন তিনি। আর তাই নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুন সময় নিয়েও ভারত বিরোধী মন্তব্য করে পাক প্রধানমন্ত্রী কোনো সুফলতো পেলেনই না৷ উল্টে রাষ্ট্রপুঞ্জে প্রকাশ পেলো তাঁর অসহায়তা।

আরও অন্যান্য খবর