consensual live-in : বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে লিভ-ইন অপরাধ নয়! আদালতের এই সিদ্ধান্ত কি পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক নিয়মকে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে?

একটি সম্পর্ক, যা সমাজের চোখে বিতর্কিত, আইনের চোখে কতটা গ্রহণযোগ্য? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই ফের আলোচনায় উঠে এল সহবাস বা লিভ-ইন সম্পর্কের বিষয়টি। সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক দু’জন মানুষের সম্মতিপূর্ণ একসঙ্গে থাকা কোনও অপরাধ নয়। এই মন্তব্য শুধু একটি নির্দিষ্ট মামলার সীমায় আবদ্ধ নয়, বরং ব্যক্তিস্বাধীনতা বনাম সামাজিক নৈতিকতার বৃহত্তর বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

মামলার সূত্র ধরে আদালতের দ্বারস্থ হয় এক যুগল, যাদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা শুরু করলেও, আদালতে এসে বিষয়টি অন্য মোড় নেয়। যুগলের দাবি ছিল, তাঁদের সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং তারা একসঙ্গে থাকতে চেয়েছেন নিজেদের ইচ্ছায়। এই প্রেক্ষিতে আদালত প্রথমেই গুরুত্ব দেয় একটি মৌলিক প্রশ্নে, সম্পর্কটি কি সম্মতিপূর্ণ, এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কি প্রাপ্তবয়স্ক?

এই মামলার শুনানি চলছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court)-এ। উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের বাসিন্দা ওই যুগল আদালতের কাছে শুধু মামলাটি খারিজ করার আবেদনই জানাননি, বরং নিজেদের নিরাপত্তার দাবিও তোলেন। শুনানিতে উঠে আসে, মহিলার পরিবার তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনেছে এবং দাবি করেছে যে তাঁকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতে ওই মহিলা স্পষ্টভাবে জানান, তাঁর বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং তিনি নিজের ইচ্ছাতেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন।

এই তথ্য সামনে আসার পর আদালত বিষয়টিকে ভিন্নভাবে বিবেচনা করে। বিচারপতিরা জানান, যদি দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি পারস্পরিক সম্মতিতে একসঙ্গে বসবাস করেন, তাহলে তা কোনওভাবেই ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এমনকি পুরুষটি বিবাহিত হলেও, সেই কারণে লিভ-ইন সম্পর্ককে অপরাধ বলা যায় না, এই যুক্তিও খারিজ করে দেয় আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আইন ও সামাজিক নৈতিকতা এক নয়, আদালতের কাজ আইন অনুযায়ী বিচার করা, সমাজের মূল্যবোধ অনুযায়ী নয়।

তবে এই মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে, নিরাপত্তার প্রশ্ন। যুগলের পক্ষ থেকে ‘অনার কিলিং’-এর আশঙ্কার কথা জানানো হয় আদালতে। অভিযোগ করা হয়, মহিলার পরিবার থেকে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেয়, যাতে ওই যুগলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণ মামলায় গ্রেফতারের উপর আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে এবং মহিলার পরিবারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন কোনওভাবে ওই যুগলকে হেনস্থা বা ক্ষতি করার চেষ্টা না করেন। আগামী ৮ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ RG KAR case; নির্যাতি*তার মা বিজেপির প্রার্থী হতেই বি*স্ফোরক জুনিয়র ডাক্তারদের আক্রমণ “ন্যায়বিচার নাকি রাজনৈতিক ব্যবহার?” নতুন করে উত্তাল আরজি কর আন্দোলন!

এই রায় একদিকে যেমন ব্যক্তিস্বাধীনতার পক্ষে একটি বড় বার্তা বহন করছে, তেমনই সমাজের প্রচলিত ধারণা ও আইনের মধ্যে পার্থক্যটাকেও স্পষ্ট করে দিচ্ছে। আদালতের এই অবস্থান ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles