গুজরাতের সেতু ভেঙে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪১-তে, নিখোঁজ বহু, ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার

গুজরাতের মচ্ছু নদীতে সেতু ভাঙার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪১-এ। আজ, সোমবার সকালে গুজরাতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি জানান যে এই ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা বিশদে জানতে চায় গুজরাত সরকার।

গতকাল, রবিবার সন্ধেবেলা গুজরাতের এই ব্রিজ ভেঙে পড়ার পরই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করে দেয়। ভারতীয় সেনাও এই সেই কাজে তাদের সঙ্গত দেয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছন গুজরাতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। আজ, সোমবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “প্রায় ২০০ জন ব্যক্তি উদ্ধারকাজে শামিল হয়েছেন। এখনও নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি চলছে। গোটা ঘটনায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে”।

জানা গিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় আপাতত ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা আরও বেশি। অনেকেই এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ এই ঘটনায়। হর্ষ জানান, “মুখ্যমন্ত্রী গতকাল রাতেই আহমেদাবাদ থেকে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে দক্ষ অফিসারদের তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে”। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কেবল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীই নয়, উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছেন সাধারণ মানুষও। এই প্রত্যক্ষদর্শী এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “সেতুর কেবল ধরে অনেকেই বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু হাত ফস্কে পড়ে যান অনেকেই। তাঁদের মধ্যে গর্ভবতী মহিলারাও ছিলেন। আমি সারারাত ধরে সকলকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। জীবনে কোনওদিন এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে দেখিনি”।

কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠছে যে কীভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল? জানা যাচ্ছে এই সেতুটি দীর্ঘদিনের পুরনো। এক বেসরকারি সংস্থা প্রায় সাত মাস ধরে মেরামত করেছিল সেতুটি। গুজরাতে বিধানসভা ভোটের কিছুদিন আগেই সেতুটি ফের সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর  এক সপ্তাহ পরেই বিপত্তি। এই ঘটনার জেরে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীরা আঙুল তুলেছে গুজরাত সরকারের ব্যর্থতার দিকেই। আজ দুর্ঘটনাস্থলে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সূত্র মারফত এমনটাই জানা গিয়েছে।

RELATED Articles