দিল্লি হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেল মমতা সরকার, ইডিকে পাঠানো রাজ্য পুলিশের নোটিশে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

ইডি আধিকারিকদের তলব করতে পারবে না রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশের নোটিশে স্থগিতাদেশ জারি করল দিল্লি হাইকোর্ট। এর জেরে বেশ বড় ধাক্কা খেল মমতা সরকার।

বলে রাখি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তিন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যেদিন ইডি তাঁকে কয়লা পাচারকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে ইডির অফিসে ডেকে পাঠায়, ঠিক সেদিনই ইডির আধিকারিকদের তলব করেছিল রাজ্য পুলিশ। তবে হাজিরা দেন নি তারা। এবার ফের ধাক্কা খেল রাজ্য। দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়ে দিল যে ইডির আধিকারিকদের কোনওভাবেই রাজ্য পুলিশ তলব করতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ই মার্চ রাজ্য পুলিশ ইডির অফিসারদের একটি নোটিশ পাঠায়। এর বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে গিয়েছিল ইডি। গতকাল, সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জসমিত সিং ওই নোটিসের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জের শুনানি করেন।

তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এই মামলায় জারি করা আগের সমনগুলি গত বছর হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ স্থগিত করেছিল এবং এর বিরুদ্ধে কোনও আবেদন করা হয়নি”। আদালত এও জানায় যে হাইকোর্টের সেই স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ না করার ফলে তা আজ পর্যন্ত বহাল রয়েছে৷ এই কারণে আদালত কার্যকরভাবে কোনও রায় না দেওয়া পর্যন্ত ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৬০ ধারা অনুযায়ী ইডিকে নোটিশ পাঠানো যাবে না।

রাজ্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আদালতে বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ পাহওয়া জানান, “বর্তমান নোটিশটি আগের জারি করা নোটিসের থেকে আলাদা। রাজ্য পুলিশ ইডি অফিসারদের কলকাতায় ডাকার পরিবর্তে দিল্লিতে এসেছে। তারা বলতে পারে না যে রাজ্য পুলিশ আদৌ ফোন করবে না এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়”।

এদিকে ইডির পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে বলেন, “কলকাতায় নথিভুক্ত একটি এফআইআর অনুসারে ইডি অফিসারদের হাজিরার জন্য নোটিস জারি করা হয়েছে। পিটিশনে ইডির তরফে বলা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের অবৈধ কয়লা খনির মামলার তদন্তকারী অফিসারদের উপর চাপ দেওয়ার জন্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই এফআইআর দায়ের করেছেন এবং তারপরই তাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে”।

RELATED Articles