একত্রিশ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। তাতে দেখা যাচ্ছে, পিঠে ব্যাগ, মালপত্র-সহ এক দল শ্রমিক উবু হয়ে বসে রয়েছেন। তাঁদের পুরো শরীর ভিজিয়ে দেওয়া হচ্ছে জীবাণুনাশক রাসায়নিকে। যাঁরা সেই স্প্রে করছেন, তাঁদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা বিশেষ পোশাকে। কিন্তু যাঁদের রাসায়নিকে স্নান করানো হচ্ছে, তাঁদের পরনে সাধারণ জামাকাপড়।
জীবাণুনাশকে ভিজতে ভিজতেই মানুষগুলির কেউ মুখ ঢাকছেন কাপড়ে, কেউ আবার নিজের ক্ষতির পরোয়া না-করে পাশে বসা শিশুটির চোখ জোড়া ঢাকছেন দু’হাতে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এ ভাবেই উত্তরপ্রদেশের বরেলীর একটি চেক পয়েন্টে ভিন রাজ্য থেকে আসা এক দল শ্রমিককে ‘শুদ্ধকরণ’ করেছে যোগী সরকার।
ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হবার পরেই উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী দল এবং নেটিজেনরা।
यूपी सरकार से गुजारिश है कि हम सब मिलकर इस आपदा के खिलाफ लड़ रहे हैं लेकिन कृपा करके ऐसे अमानवीय काम मत करिए।
मजदूरों ने पहले से ही बहुत दुख झेल लिए हैं। उनको केमिकल डाल कर इस तरह नहलाइए मत। इससे उनका बचाव नहीं होगा बल्कि उनकी सेहत के लिए और खतरे पैदा हो जाएंगे। pic.twitter.com/ftovaFHR5q
— Priyanka Gandhi Vadra (@priyankagandhi) March 30, 2020
উত্তরপ্রদেশে প্রশাসন সূত্রের খবর, সরকারের দেওয়া বাসে করে গত কাল দিল্লি, হরিয়ানা ও নয়ডা থেকে এক দল শ্রমিককে নিয়ে আসা হয়েছিল। বরেলীর একটি চেক পয়েন্টে পৌঁছনোর পরে তাঁদের বাড়ি যেতে দেওয়া হয়নি। স্যাটেলাইট বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাস্তার ধারে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলকে উবু হয়ে বসিয়ে জীবাণুনাশক রাসায়নিকে স্নান করানো হয়। পুলিশ এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীদের উপস্থিতিতেই গোটা ঘটনাটি ঘটেছে। ভিডিয়োতে এক পুলিশকর্মীকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘চোখ বন্ধ করো। বাচ্চাদের চোখ ঢেকে রাখো।’’
বরেলীতে কোভিড-১৯-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নোডাল অফিসার অশোক গৌতম জানিয়েছেন, স্যানিটাইজ়ার ও জলের সঙ্গে ক্লোরিন মিশিয়ে শ্রমিকদের স্নান করানো হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘ওঁদের জীবাণুমুক্ত করা দরকার ছিল। জীবাণুনাশক স্প্রে করার সময় ওঁদের চোখ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম।’’ অন্যদিকে দমকল বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, সরকারি বাসগুলিকে জীবাণুমুক্ত করতে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, শ্রমিকদেরও কি ওই রাসায়নিকেই স্নান করানো হল? সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বরেলীর জেলাশাসক।
ঘটনাটি নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে একহাত নিয়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধীর টুইট, ‘‘এমন অমানবিক কাজ করবেন না। শ্রমিকেরা এমনিতেই অনেক কষ্ট সহ্য করছেন। ওঁদের এ ভাবে রাসায়নিক দিয়ে স্নান করাবেন না। এতে ভাল হবে না, বরং ওঁদের ক্ষতিই হবে।’’ ঘটনায় সরব হয়েছেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতীও। তাঁর মতে, “এই ঘটনা নিষ্ঠুর ও অবিচারের উদাহরণ।” অন্যদিকে এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব জানতে চেয়েছেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকায় রাসায়নিক দিয়ে স্নান করানোর কথা বলা আছে নাকি?”





