দেশব্যাপী করোনা মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত রাজ্য? তা জানতেই এক একদিন এক এক রাজ্য আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। এই বৃহস্পতিবার ছিল বাংলার পালা। কিন্তু মিটিংয়ে নাকি উপস্থিতই হলেন না রেড জোনের জেলাশাসকরা, এমনটাই জানতে পেরেছে হিন্দুস্তান টাইমস। এই নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
রোজদিনই কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে সংঘাত চলতেই থাকে। এবার করোনা নিয়েও প্রথম থেকেই চলছে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন। রাজনৈতিক রেশারেশির প্রভাব এই করোনার সংকটও অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। করোনা আক্রান্ত ১৬৯৮, মৃত্যু হয়েছে ১৬০ জনের।
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য যে বিশেষ ট্রেনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে তা রাজ্যে প্রবেশ করতে পারছে না এমন অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, নবান্ন নাকি আটটি ট্রেন আসার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রকে। এই বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয় এই অভিযোগ প্রমাণ করুন নয়তো ক্ষমা চান।
এর আগে করোনা পরিস্থিতি সরজমিনে দেখতে রাজ্যে আসেন কেন্দ্রের দুই প্রতিনিধি দল। সে ক্ষেত্রেও রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে। কেন্দ্রের এক বরিষ্ঠ কর্তার অভিযোগ, রাজ্যের থেকে কোনও সাহায্য না পাওয়ায় আইএমসিটির দলকে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থানে যেতে হয়েছে নজরদারি করার জন্য! রাজ্যের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে তারা অভিযোগ করে রাজ্য করোনা নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অপরপক্ষে সেই দল পক্ষপাতদুষ্ট, বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল। কিন্তু তারপরেও কেন্দ্রের এত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাজ্যের তরফে মাত্র একজনের উপস্থিতিতে চমকে উঠেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা জানান, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বাংলার স্পর্শকাতর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলাশাসকরা যোগ দেননি। বাংলার একমাত্র প্রতিনিধি জাতীয় স্বাস্থ্যমিশনের এমডি সৌমিত্র মোহন জানান যে তিনি জেলাশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এই ঘটনায় হর্ষবর্ধন প্রশ্ন করেন, ‘ জেলাশাসকের কি বৈঠকে আসবে না?’
এদিন কেন্দ্রের তরফ থেকে সৌমিত্র মোহনকে জানানো হয়,পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেন আসা-যাওয়া নিয়ে বাংলা এখনও কোনও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি)জারি করেনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের বরিষ্ঠ এক কর্তা জানিয়েছেন যে রাজ্য এখন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কন্টেনমেন্ট জোন বাড়িয়ে বলা নিয়ে অভিযোগ করতেই ব্যস্ত। কিন্তু রাজ্যে রেড জোনগুলিতে নিজেরা নজর রাখতে অক্ষম। এমনকি কন্টেনমেন্ট জোনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষাও করছে না। উত্তর কলকাতায় অনেক জায়গায় কন্টেনমেন্ট জোনের নিয়মই মানা হচ্ছে না বলেও কেন্দ্রের অভিমত।
Surveillance for Severe Acute Respiratory Infections (SARI)/Influenza Like Illness (ILI) পরীক্ষা বাড়ানোর ওপরেও বাংলাকে বারংবারই জোর দিতে বলেছে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দল নিজেদের স্টেটাস রিপোর্টে লিখেছে যে বাংলা ৫০ লক্ষ মানুষের সমীক্ষার কথা বললেও তা নিয়ে বেশ ধোঁয়াশা রয়েছে। এই বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমস বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কথা বলতে চাননি সৌমিত্র মোহন।





