প্রাথমিক তদন্তেই জানানো হয়েছিল যে কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ নয়, বরং মানুষের ভুলেই মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশে। এবার রেল আধিকারিকরাও তেমনটাই জানালেন। জানা গিয়েছে, বিশাখাপত্তনম-রায়গড় প্যাসেঞ্জার ট্রেনের চালক কোনও সিগন্যাল মানেন নি। সিগন্যাল ভেঙ্গেই এগিয়ে যান তিনি।
আর এই সিগন্যাল না মানার কারণেই ঘটে দুর্ঘটনা। ট্রেনটি ধাক্কা মারে বিশাখাপত্তনম-পালাসা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্ততপক্ষে ৫০। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
গতকাল, রবিবার সন্ধে সাতটা নাগাদ বিশাখাপত্তনম থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে কান্তাকাপল্লির কাছে বিশাখাপত্তনম-রায়গড় প্য়াসেঞ্জার ট্রেন ও বিশাখাপত্তনম-পালাসা প্যাসেঞ্জার ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের জেরে বিশাখাপত্তনম-পালাসা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির পিছনের দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়। আর বিশাখাপত্তনম-রায়গড় প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনও উল্টে যায়।
এই দুর্ঘটনা নিয়ে ইস্ট কোস্ট রেলওয়ের মুখ্য় জনসংযোগ আধিকারিক বিশ্বজিৎ সাহু বলেন, “বিশাখাপত্তনম-রায়গড় প্যাসেঞ্জার ট্রেনের চালকই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। রেলের সিগন্যালিংয়ের কোনও সমস্যা ছিল না। প্রাথমিক তদন্ত জানা গিয়েছে, পালাসা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ওই লাইনে থাকায়, পিছন থেকে আসা বিশাখাপত্তনম-রায়গড় প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে লাল সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চালক সেই সিগন্যাল না মানায় দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি গিয়ে পালাসা প্য়াসেঞ্জার ট্রেনের পিছনে ধাক্কা মারে। ওই চালকের মৃত্যু হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও জারি রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট চিত্র দেখা যাবে”।
ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। জানা যাচ্ছে, আজ, সোমবার বিকেলের মধ্যে উদ্ধারকাজ সেহ হয়ে যাবে। এই দুর্ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত ওই শাখায় ১৮টি ট্রেন বাতিল হয়েছে। ২৬টি ট্রেনের রুট বদল করা হয়েছে বলে খবর। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শোকপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নিহতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।





