দেশে ফিরলো নীরব মোদী ও মেহুল চোকসির ১৩৫০ কোটি টাকার রত্ন সামগ্রী, সৌজন্যে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট

কোটি কোটি টাকা ও প্রচুর ধনসম্পত্তি নিয়ে তাঁরা দেশ থেকে বেপাত্তা। তাঁদের মাথার ওপর ঝুলছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। ২৩ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার পিএনবি দুর্নীতির মূল অভিযুক্ত নীরব মোদি ২০১৯-র মার্চ থেকে ব্রিটেনের জেলে বন্দি। চোকসি বর্তমানে অ্যান্টিগাতে রয়েছেন। এই মামলায় দুই অভিযুক্তেরই প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালাচ্ছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এবার হংকং থেকে তাদের ১৩৫০ কোটি টাকার রত্ন সামগ্রী দেশে ফিরিয়ে আনলো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। হীরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী ও তাঁর মামা মেহুল চোকসির হীরে-মুক্তো রুপোর গয়না গাটি সহ এই বিপুল পরিমাণ টাকার সম্পত্তি দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইডি নীরব মোদি ও চোকসির মালিকানাধীন সংস্থার কাছ থেকে ২,৩৪০ কেজি ওজনের হীরে, মুক্তো ও রূপোর গহনা উদ্ধার করেছে। এই দামী সামগ্রীগুলি ১০৮ প্যাকেটে হংকং থেকে মুম্বইয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এরমধ্যে ৩২ টি নীরব মোদির নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলি থেকে এবং বাকি চোকসির নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলির কাছ থেকে আনা হয়েছে।

ইডির তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুম্বইয়ের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের শাখায় বহু হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ইডি নীরব মোদি ও চোকসি-উভয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।

আরও জানা গিয়েছে, ওই মূল্যবান সামগ্রীগুলি ফিরিয়ে আনার জন্য হংকং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। মুম্বইয়ের একটি বিশেষ আদালত নীরব মোদির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। পলাতক আর্থিক অপরাধ আইন (এফইওএ) এর আওতায় এই প্রথম এ সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নির্দেশে আদালত বলেছে যে, এফইও আইনের ধারা অনুযায়ী ইডি একমাসের মধ্যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

নীরব মোদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে পলাতক আর্থিক অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। লন্ডনের জেলে বন্দি অভিযুক্ত নীরব বর্তমানে ভারতে প্রত্যর্পণ এড়াতে আইনি লড়াই করছেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও আর্থিক তছরূপের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভারতে যে প্যাকেটগুলি আনা হয়, সেগুলি দুই অভিযুক্ত বিদেশে খেপে খেপে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে কারুর সন্দেহ না হয় সেজন্য দুর্নীতি থেকে প্রাপ্ত অর্থ গয়নাগাঁটির আকারে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এই সব গয়নাগাঁটি ২০১৮-র শুরুতেই ভারত থেকে দুবাই হয়ে হংকংয়ে পাঠানো হয়েছিল। ইডি-র আধিকারিকরা ২০১৮-র জুলাইতে এই সামগ্রীগুলি সম্পর্কে গোপন সূত্র মারফত জানতে পেরেছিলেন। সংস্থার তৎকালীন প্রধান হংকং কর্তৃপক্ষ সব সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং সেগুলি হংকংয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে সেগুলি দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

RELATED Articles

Leave a Comment