কলকাতার রাজনৈতিক মহলে একবার ফের উত্তেজনা ছড়াল। সকাল সকাল বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি। শহর এবং শহরতলির একাধিক এলাকা আজ সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাধারণ জনজীবন আজ সকাল থেকেই এই খবরের প্রভাবে কিছুটা ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ সকালে মুর্শিদাবাদের আন্দিতে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় দুটি গাড়ি। একটিতে ছিলেন ইডি অফিসাররা, অন্যটিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বাড়িটি প্রথমে জওয়ানরা ঘিরে ফেলে। এরপর পাঁচজন ইডি আধিকারিক বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে এবং জীবনকৃষ্ণ সাহার সঙ্গে সরাসরি জেরাপ্রক্রিয়া শুরু করে।
একই সময়, বীরভূমের সাঁইথিয়ায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মায়া সাহার বাড়িতেও কেন্দ্রীয় সংস্থা হানা দেয়। মায়া সাহা, জীবনকৃষ্ণের পিসি। বাড়ির বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং সেখানে তল্লাশি চলছে। যদিও এই মুহূর্তে মায়া বা জীবনকৃষ্ণের ঘনিষ্ঠ কেউ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
জানা গেছে, জীবনকৃষ্ণ সাহা ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। এরপর ১৩ মাস জেল বন্দি থাকার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে তিনি জামিনে মুক্ত হন। এই অভিযান মূলত ওই দুর্নীতির পুনরায় তদন্তের অংশ হিসেবে চালানো হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, মায়া সাহার বাড়ি ও নিয়োগ দুর্নীতির মধ্যে কী ধরনের যোগ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ The Bengal Files : “বিবেক অগ্নিহোত্রী আসলে বিবেকহীন মূর্খহোত্রী” — ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এ গোপাল মুখোপাধ্যায়ের চরিত্র বিকৃত দেখানোর অভিযোগে এবার সরব হলেন ঋদ্ধি সেন!
এদিকে, এই অভিযানে ইডি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী একযোগে কাজ করছে। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে অভিযান চালানোয় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই অভিযান আরও বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। সবশেষে, ইডি সূত্রে জানা যায়, অভিযানের মূল লক্ষ্য জীবনকৃষ্ণ সাহা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা।





