বাংলার সিনেমা ও রাজনীতির মাটি এখন উত্তপ্ত। মুক্তির আগেই তীব্র বিতর্ক ঘিরে ফেলেছে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। এই ছবিতে বাংলার ইতিহাস বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। বহু পরিচালক-প্রযোজকের সঙ্গে সরব হয়েছেন অভিনেতা ঋদ্ধি সেনও। বরাবরই সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে স্পষ্টবাদী মন্তব্য করে থাকেন তিনি। তাই বাংলাকে অপমান ও ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে এবারও তিনি নীরব থাকলেন না।
ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ঋদ্ধির মন্তব্য, “আজ ফেসবুক ও হোয়াটস্যাপ ইতিহাসবিদদের জন্য দুঃখের দিন।” আসলে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের উত্তরসূরী শান্তনু মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগকে সমর্থন করেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। শান্তনুর দাবি, তাঁর দাদুর চরিত্র সিনেমায় ব্যবহার হলেও পরিবারের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। উল্টে তাঁকে ‘এক থা কষাই গোপাল পাঁঠা’ বলে পরিচিত করানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ তথ্যবিকৃতি। এই ঘটনার পর পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিসও পাঠানো হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই ঋদ্ধির কটাক্ষ, “সত্যিকে কখনও চাপা দেওয়া যায় না, বরং জনসমক্ষে তার প্রকাশ হওয়া উচিত। ট্রেলার না বেরোলে কেউই জানতে পারত না যে বিবেক অগ্নিহোত্রী আসলে বিবেকহীন মূর্খহোত্রী।”
শান্তনু মুখোপাধ্যায় মনে করিয়ে দিয়েছেন, গোপাল মুখোপাধ্যায় বা ‘গোপাল পাঁঠা’ মোটেই কসাই ছিলেন না। অনুশীলন সমিতির কাজে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি চালাতেন পাঁঠার মাংসের দোকান। কুস্তিগির ছিলেন, বুকের পাটা ছিল ঈর্ষণীয়। হিন্দিভাষীদের উচ্চারণে তাঁর নাম বিকৃত হয়ে দাঁড়ায় ‘পাঁঠা’। ১৯৪৬ সালে মুসলিম লিগের দাঙ্গা প্রতিরোধে তিনি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন মানুষের স্বার্থে। তাঁর চরিত্রকে ছবিতে ভিলেন হিসেবে দেখানো বাংলার ইতিহাসকে বিকৃত করার সামিল বলেই অভিযোগ পরিবারের।
গ্রেটার ক্যালকাটা কিলিং, অর্থাৎ ছেচল্লিশের দাঙ্গা ছিল বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। তৎকালীন কমিউনিস্ট নেতৃত্ব ও মুসলিম লিগের সভার পর ধর্মতলা, নারকেলডাঙা, কলুটোলা জুড়ে শুরু হয়েছিল লুটপাট ও হত্যালীলা। সেই পরিস্থিতিতে গোপাল মুখোপাধ্যায় তাঁর অনুগামীদের অস্ত্র হাতে সংগঠিত করেছিলেন। শর্ত ছিল স্পষ্ট—দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে, কিন্তু নিরীহ মানুষকে আঘাত করা যাবে না। এই মানবিক দিকই তাঁকে বাংলার ইতিহাসে এক অনন্য চরিত্রে পরিণত করে।
আরও পড়ুনঃ Weather: ফের সাগরে নিম্নচাপ, টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে
এই পটভূমি থেকেই পরিবার ও টলিপাড়া একযোগে সরব হয়েছেন ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর বিরুদ্ধে। ছবির পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে। বাংলার মানুষের আবেগ ও আত্মত্যাগকে ছোট করে দেখানো হয়েছে বলে ক্ষোভ বাড়ছে। আর সেই কারণেই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের তোপে এবার আরও উসকে উঠল বিতর্ক। এখন দেখার বিষয়, এত প্রতিক্রিয়ার পরও পরিচালক নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন কি না।





