বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একটি খবর প্রকাশিত হচ্ছে যে বিজেপির শীর্ষ নেতা মুকুল রায় ফের ফিরে আসতে চলেছেন তৃণমূলে। কিন্তু আমাদের টিম গোটা ঘটনার অন্তর্তদন্ত করে যা তথ্য পেল তা পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হল। আমাদের তদন্ত থেকে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী একটি বিষয় স্পষ্ট জানান দিচ্ছে যে মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা শূন্য। কেন এই সম্ভাবনা শূন্য তা এবার আমরা নিম্নলিখিত তথ্যের সাহায্যে তুলে ধরছি।

সম্প্রতি একটি খবর সংবাদ মাধ্যমে বেশ চর্চিত যে মুকুল রায়ের সঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রবল মতান্তর চলছে বর্তমানে। কিন্তু আসল ঘটনা হল, সাংগঠনিক বিষয়ে গত সপ্তাহেই দিল্লিতে মুকুল রায় এর মিটিং ছিলো। সেই মিটিং দুই দিনে সম্পন্ন করার কথা ছিল, প্রথম দিন অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা-র এর সাথে মিটিং হয়। দ্বিতীয় দিন কৈলাশ বিজয়বর্গীর বাসভবনে রাজ্যের কোর কমিটির উপস্থিতি সহ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি দলের কেন্দ্রীয় সহ-সংগঠন মহাসচিব শিব প্রকাশ বাবু, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত, রাজ্য বিজেপি-র সংগঠনমন্ত্রী সুব্রত চ্যাটার্জি এবং সাংসদ দিলীপ ঘোষ। এই মিটিং সম্পূর্ণ করে মুকুল রায় দিল্লির নিজ বাসভবনে ফিরে আসেন। তিনি দ্বিতীয় মিটিং-এ বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন শীর্ষ নেতৃত্বকে। ওই বৈঠকে কিছু বিষয়ে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হলেও, যেটা হয়েছিল সেটি সম্পূর্ণ দলীয় আলোচনা ছাড়া আর কিছুই নয়, এমতাবস্থায় যারা এরকম ভুল খবর পরিবেশন করেছিলেন এতে দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায় উভয়েই বিরক্ত।

যারা মুকুল রায়ের সম্পর্কে বিস্তারিত খবর রাখেন তারা হয়তো জানেন যে সুগারের সমস্যার কারণে মুকুল রায়ের চোখের বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। সেই সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য প্রায় প্রায়শই তাঁকে বেঙ্গালুরুতে যেতে হয়। তিনি কলকাতাতেও মাঝে মাঝেই চোখের বিষয়ে চিকিৎসককে দেখান।

প্রসঙ্গত, এই দ্বিতীয় মিটিং এর পরেই মুকুল রায়ের কাছে তাঁর চোখের চিকিৎসকের ফোন আসে কলকাতা থেকে। শুধুমাত্র সেই কারণেই তিনি কলকাতায় আসেন দিল্লি থেকে। এমনকি তিনি হয়তো আজ অথবা আগামীকাল বেঙ্গালুরুও যেতে পারেন চোখের চিকিৎসার জন্য এমনই খবর উঠে এসেছে আমাদের তদন্তে। আমরা জানতে পেরেছি যে, চোখের বিষয়ে তাকে ইনজেকশন নেওয়ার পর কমপক্ষে দু’দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে পাঠানো হতে পারে তাকে। তাই তিনি এই কথা কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়ে এসেছেন যে তার চোখ সংক্রান্ত সমস্যা মিটে গেলেই তিনি আবার দিল্লি উড়ে যাবেন।

এরপরে মুকুল রায় কলকাতা চলে আসার পর দিল্লিতে যে মিটিং গুলো হয়েছিল সেগুলো আসলে বিজেপি জেলা সভাপতির সঙ্গে সাংগঠনিক স্তরে সমন্বয় রক্ষা করার উদ্দেশ্যে হয়েছিল। সেখানে মুকুল রায়-এর থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না বলেই আমাদের তদন্তে উঠে এসেছে। আমাদের তথ্য বলছে যে গতকালই মুকুল রায় দিল্লি থেকে ফোন পান এবং আগামী শুক্রবার অমিত শাহ এবং জেপি নাড্ডার সাথে মিটিং এর দিন চূড়ান্ত হয় বলেও খবর। এই তথ্য একমাত্র সবার আগে ‘খবর ২৪x৭’-এর কাছেই এসেছে।

এছাড়াও অনেকেই বলছেন যে মুকুল রায় বিজেপি রাজ্য সদর দপ্তরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু ঘটনা হল বিজেপি রাজ্য সদর দপ্তর করোনার জন্য বেশ কিছুদিন হল বন্ধ আছে এবং মুকুল রায় নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। তাই তিনি বিলক্ষণ জানেন যে তিনি যদি একবার এখন এই পরিস্থিতিতে বিজেপি রাজ্য সদর দপ্তরে যান তবে দপ্তরে যা ভিড় হবে তা সামাল দিতে সামাজিক দুরত্ব রাখা সম্ভব নয়। সেখানে তাঁর মত একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ কখনোই এই অবিবেচক কাজ করবেন না। মুকুল রায় বলেছেন করোনা আবহ না যাওয়া পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে যাবেন না।

বিভিন্ন বিষয়েই রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ বাবু বরাবরই চাঁচাছোলা ভাষায় কথা বলে থাকেন। অনেকেই তাঁর সোজাসাপ্টা বক্তব্যকে বিকৃত করে পেশ করে। দিলীপ বাবুই প্রথম দিল্লিতে বলেছিলেন যে, মুকুল রায় করোনার জন্য দূরে দূরে থাকছেন। ওনার চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ফিরে যাবেন কলকাতায়। কিন্তু এই কথাটিকেই বিকৃত করে বাংলার বেশকিছু সংবাদমাধ্যমে মুচমুচে খবর বানিয়ে পরিবেশন করে দেওয়া হয়। বস্তুত দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায়ের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও একে অপরকে যথেষ্ট সম্মান করেন, অন্তত আমাদের তদন্তে এটাই উঠে এসেছে।

এমনকি এও গুজব উঠেছিল যে মুকুল রায় তাঁর বাসভবন থেকে বিজেপি সংক্রান্ত সমস্ত সাইনবোর্ড খুলে নিয়েছেন কিন্তু আমাদের তদন্ত বলছে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে যখন বিধানসভা নির্বাচন হয় তখন নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি মেনে সাইনবোর্ড খুলতে হয় মুকুল রায়কে। এরপরেই দিল্লিতে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে প্রবল বৃষ্টিতে সাইন বোর্ডটি নষ্ট হয়ে যায়।

তারপরেই মুকুল বাবু নিজেই দু’টি নতুন সাইন বোর্ড এর অর্ডার দিয়েছেন বলে খবর কারণ ইতিমধ্যেই বিজেপি-র কেন্দ্রীয় সভাপতি বদল হয়েছে। যে পুরনো বোর্ডটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল সেটিতে সভাপতি হিসেবে জেপি নাড্ডা ছিলেন না, ছিলেন অমিত শাহ।
এদিকে নতুন সাইনবোর্ড যখন তৈরি হয়ে আসে ততদিন এদেশে করোনা সংক্রান্ত লকডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে তাই সেই সাইনবোর্ড লাগানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু মুকুল রায়ের বাড়ির ভিতরে এখনও নরেন্দ্র মোদী, দিনদয়াল উপাধ্যায়, অমিত শাহ-র ছবি বাড়ির দেওয়ালে জ্বলজ্বল করছে। আমাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই তথ্যও।
প্রসঙ্গত, বিরোধিতা ছাড়া রাজনীতি হয় না এই কথা সকলেই প্রায় জানেন। তাই বলে বেশ কিছুদিন ধরে যে খবর চারিদিকে ভেসে উঠেছে যে মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরে আসতে চলেছেন সেই খবর শুনে মুকুল রায় নিজেই হতচকিত।
মুকুল রায় আমাদের জানিয়েছেন যে, “মমতা ব্যানার্জিকে সরানোর লড়াইয়ে আমি আপসহীন সংগ্রাম করছি এবং আমি নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছি। বাংলায় সরকার বদল অবশ্যম্ভাবী এবং যে সরকার আসবে তা হবে বিজেপির সরকার।”
সুতরাং আমাদের অন্তর্তদন্তে যে যে তথ্য উঠে এসেছে তা আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমরা সঠিক খবর পরিবেশন করতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস অথবা সিপিআইএম কোন রাজনৈতিক দল নয় আমাদের মূলমন্ত্র হল সঠিক খবর পরিবেশন করা। শুক্রবার অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডার সঙ্গে মুকুল রায়ের বৈঠক হবে এই খবরটি আমরা আপনাদের কাছে প্রথম তুলে ধরলাম।
আপনাদের কাছে সঠিক খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের টিমের প্রত্যেকে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছে। তাই বাংলার রাজনীতির সঠিক তথ্য সবার আগে জানতে অবশ্যই চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!