গান্ধীজি কি মদের বিজ্ঞাপনযোগ্য? রাশিয়ার বিতর্কিত পদক্ষেপে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ!

বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি তাদের পণ্য বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডিং কৌশল অবলম্বন করে। এই কৌশলের অন্যতম প্রধান দিক হল বিশেষ প্রতীক, ব্যক্তিত্ব বা সাংস্কৃতিক চিহ্ন ব্যবহার করা। বিশ্বজুড়ে এমন বহু সংস্থা রয়েছে, যারা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের ছবি, উদ্ধৃতি বা প্রতীকী নিদর্শনকে নিজেদের ব্র্যান্ডিংয়ে কাজে লাগিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চায়। কখনও কখনও এটি সংস্থার ভাবমূর্তি গঠনে সাহায্য করে, আবার কখনও এর ফলে সৃষ্টি হয় বিতর্কের। বিশেষ করে যখন কোনও প্রতীক বা ব্যক্তিত্ব জাতীয় বা ঐতিহাসিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তখন এমন ব্যবহারে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে বহুবার এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ছবি বা নাম ব্যবহার করে পণ্য বিপণন করা হয়েছে এবং তা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভারতেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ব্যক্তিত্বদের নাম বা ছবি ব্যবহার নিয়ে প্রতিবাদ উঠেছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থা ক্ষমা চেয়ে নেয়, আবার কখনও বিতর্ক গড়ায় কূটনৈতিক পর্যায়ে। সম্প্রতি এমনই এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাশিয়ায়, যেখানে একটি মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাদের পণ্যের বোতলে মহাত্মা গান্ধীর ছবি এবং স্বাক্ষর ব্যবহার করেছে।

সম্প্রতি, ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নন্দিনী শতপথীর নাতি তথা রাজনীতিক সুপর্ণ শতপথী সমাজমাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে রাশিয়ার একটি বিয়ারের বোতলে মহাত্মা গান্ধীর ছবি দেখা যায়। ছবিটি ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। ভারতীয় নেটিজেনদের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। সুপর্ণ শতপথী ভারত সরকারের কাছে আর্জি জানান, যেন রাশিয়ার সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা করা হয়। তিনি জানান, এটি কেবল অশোভন নয়, বরং ভারতের জাতির পিতার প্রতি অসম্মানের বহিঃপ্রকাশ।

আরও পড়ুনঃ শীতের শেষে বর্ষার আভাস! কলকাতা-সহ কোথায় কোথায় নামবে বৃষ্টি? কি বলছে আবহাওয়া দপ্তর?

এই বিতর্কের মধ্যেই রাশিয়ার ওই সংস্থা সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে একটি বিবৃতি দেয়। সংস্থাটি জানায়, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কারও ভাবাবেগে আঘাত করতে চায়নি। তাদের বক্তব্য, গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানাতেই তারা তার ছবি ব্যবহার করেছিল। তারা আরও জানায়, এক বছর আগেই ভারতীয় দূতাবাসের অনুরোধে গান্ধীর ছবি দেওয়া বোতলের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু পুরনো বোতল এখনো বাজারে রয়ে গেছে, যেগুলি দ্রুত তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এই বিতর্ক অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালেও ইজরায়েলের এক সংস্থা মদের বোতলে গান্ধীর ছবি ব্যবহার করেছিল, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। সে সময়ও ভারতীয়দের একাংশ কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, এবং সংস্থাকে শেষমেশ ক্ষমা চাইতে হয়। এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ছবি বা নাম বাণিজ্যিক পণ্যে ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তা বারবার বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles