‘বাংলা যা আজ ভাবে ভারত ভাবে কাল।’ গোখেল উক্তি স্মরণে কলকাতার হাতে দেশ নেতৃত্বের ব্যাটন তুলে দিলেন মোদী!

উৎপাদন শিল্পে বাংলার সোনার দিন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই আজ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে জানান, তাঁর বিশ্বাস কলকাতাই পারে আবার দেশকে নেতৃত্ব দিতে।

বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স-এর ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় মোদী বলেন, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নতির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কেন্দ্রীয় সরকার। সেজন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বণিকসভাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই কয়েক দশক ধরে উত্তর-পূর্ব ভারত এবং পূর্ব ভারতে কাজ করছেন। সরকার যে সমস্ত পদক্ষেপ করেছে, তা পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বের মানুষের পক্ষে ব্যাপক লাভজনক হবে।’

আগামীতে বাংলাই দেশকে নেতৃত্ব দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন মোদী। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, কলকাতা নিজেই আবারও খুব বড় লিডার হতে পারবে। উৎপাদন ক্ষেত্রে বাংলার ঐতিহাসিক উৎকর্ষতাকে পুুনরূদ্ধার করতে হবে আমাদের। আমি সর্বদা শুনেছি, বাংলা আজ যা ভাবে, ভারত সেটা পরদিন ভাবে। আমাদের সেটা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের যে লক্ষ্য নিয়েছে, তা বাংলার পাটশিল্পের সামনে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বণিকসভা কর্তৃপক্ষকে মোদী প্রশ্ন করেন, ‘শুধু ভাবুন, প্রত্যেকে যদি বাংলায় তৈরি পাটের ব্যাগ নিয়ে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে রাজ্যের কত মুনাফা হবে। আপনারা সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে এই উদ্যোগের সুবিধা নিয়েছেন? আপনারা প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাট দিয়ে প্যাকেজিং করা শুরু করেছেন? আপনাদের এটার সুবিধা নিতে হবে। আপনাদের কে সাহায্য করবে যদি না আপনারা এই সুযোগ নেন?’

বাংলার পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের উপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন মোদী। তিনি বলেন, ‘সিকিম পুরো উত্তর-পূর্ব (ভারত) জৈব চাষের বড়সড় হাবে পরিণত হতে পারে। তা জৈব (চাষের) কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। যদি ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স চায়, তাহলে উত্তর-পূর্ব ভারতে আমূল পরিবর্তন আনা যাবে। আপনারা উত্তর-পূর্ব ভারতের আন্তর্জাতিক পরিচিতি গড়ে তুলতে পারবেন। আপনারা যদি চান, তাহলে এরকম পণ্যের মাধ্যমে বিশ্বের বাজার ধরতে পারবেন।’ উল্লেখ্য, ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে ২০০৩ সালে সিকিম জৈব চাষের পথে হেঁটেছিল।

RELATED Articles

Leave a Comment