মানবতাকে সেলাম! প্রবল বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে নিজের বাড়ি। অন্যকে বাঁচাতে খোলা ম্যানহল পাহারা দিলেন মুম্বাইয়ের কান্তা!

মুম্বইয়ের কান্তা মূর্তি কলন। প্রবল বৃষ্টিতে তাঁর নিজের বাড়ির ভিতর হাঁটু সমান জল জমেছিল। একটানা বৃষ্টিতে ভেঙেছে বাড়ির চাল। কিন্তু শুধুমাত্র নিজের চিন্তা করার জন্য তাঁর কাছে সময় নেই। কারণ তার চিন্তা ভাবনার পরিধি বিশাল। নিজের থেকেও অপরের পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছা তাঁর মধ্যে প্রবল। আর তাই নিজের বাড়ির বাইরে তাকিয়ে তিনি আরও বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েন। কজনই বা এমনভাবে ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বাদ দিয়ে পরোপকারের কথা ভাবতে পারেন! কিছু অন্তত পারেন। আর এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কান্তাই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আর কাউকে ম্যানহোলে ডুবে মরতে দেবেন না। তাই টানা ৭ ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন রাস্তার খোলা ম্যানহলের সামনে। অথচ, কান্তার নিজের বাড়ির অবস্থাই শোচনীয়। মুম্বইয়ের অসম্ভব বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে তাঁর বাড়ির একাংশ। কিন্তু তিনি সেদিকে নজর না দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন অন্যের জীবন বাঁচাতে!

মুম্বইয়ের তুলসী পাইপ রোডে খোলা ম্যানহলের সামনে তিনি সাত ঘণ্টা লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক সামলেছিলেন। ২০১৭-র মুম্বাইয়ে প্রবল বৃষ্টির সময় ৯ই অগাস্ট ডা. দীপক অমরাপুরকর নামে এক ব্যক্তি নিজের গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে বাড়ি যাওয়ার সময় খোলা ম্যানহলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। মুম্বইয়ের পরেল এলাকায় একটি খোলা ম্যানহলে পড়ে যান তিনি। দুদিন পর বরেলি এলাকা থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনা নাড়া দিয়েছিল কান্তাকে। তাই তিনি খোলা ম্যানহল পাহারা দিতে সাত ঘণ্টা ক্ষিদে, তৃষ্ণা সহ্য করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিএমসির আধিকারিকরা আসার পর তিনি সরে দাঁড়ান। কান্তার এই দেশসেবা বহু মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই বলেছেন, এভাবেও দেশের সেবা করা যায়!
এমনি সময় কি করেন কান্তা? কিভাবেই বা চলে তাঁর সংসার?

বাণিজ্য নগরীর দাদরের এক বাজারে ফুল বিক্রি করে সংসার চালান কান্তা। তাঁর আট ছেলেমেয়ে। এখন দুটি সন্তান তাঁর সঙ্গে থাকে। বাকিরা বিয়ে করে আলাদা হয়েছে। কান্তার স্বামী ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। কোনওরকমে একার হাতে সংসার টানেন কান্তা। দুই সন্তান এখন স্কুলে পড়ে। সমাজ দরদী কান্তার কথায়, ”সেদিন তুলসী পাইপ রোডে কোমর পর্যন্ত জল দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। আমি ম্যানহল খুলে দিই। তাতে কিছুটা জল নেমে যায়। কিন্তু খোলা ম্যানহলে পড়ে কারও বিপদ হতে পারত। তাই আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম ওখানে। সকাল ছটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত। বিএমসি থেকে লোক এলে আমি বাড়ি চলে আসি।” ভাল কাজ করলে ভালই হবে। কান্তার সঙ্গেও তাই হচ্ছে। বিএমসি কর্মী থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনরে সদস্য, অনেকেই এসে কান্তার ভাঙা বাড়ি সারিয়ে দিয়েছেন। কখন যে কান্তা দেশের মানুষের কাছে প্রণম্য হয়েছেন তা তিনি নিজেও জানেন না। শুধু বলছেন, ”আমার যেটা করা উচিত ছিল সেটাই করেছি। ভবিষ্যতেও করব।”

RELATED Articles

Leave a Comment