ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক আবারও নতুন মোড় নিতে চলেছে। শুল্ক নিয়ে মাসের পর মাস চাপানউতর, রাজনৈতিক কটাক্ষ আর ঠান্ডা যুদ্ধের পর এবার ভারতে আসছেন মার্কিন প্রতিনিধিদলের প্রধান ব্রেন্ডন লিঞ্চ। সোমবার রাতেই তিনি পৌঁছবেন নয়াদিল্লি, আর মঙ্গলবার থেকেই ফের টেবিলে বসবে দুই দেশ। প্রশ্ন উঠছে, এত কড়া অবস্থানের পর হঠাৎ নরম সুর কেন ট্রাম্প প্রশাসনের? স্রেফ বাণিজ্যের স্বার্থ, না কি এর আড়ালে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক খেলা চলছে?
ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে ভারতের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক কার্যত থমকে গিয়েছিল। প্রথমে ২৫ শতাংশ, তার পরে আরও ২৫ শতাংশ—মোট ৫০ শতাংশ হারে ভারতের পণ্যের উপর শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এশিয়ার অন্য কোনও দেশের উপর এমন চাপানো হয়নি। শুধু ভারত আর ব্রাজিল। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে ভারতকে কখনও ‘মৃত অর্থনীতির দেশ’, কখনও ‘শুল্কের মহারাজা’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন ট্রাম্প। ভারতের তরফে পাল্টা প্রতিক্রিয়াও ছিল যথেষ্ট কড়া। নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত অন্যায্য ও অনর্থক। প্রয়োজনে দেশীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ করবে ভারত। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেও বারবার দেশীয় পণ্যের গুরুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সুর পাল্টে ফেলেছেন ট্রাম্প। স্বীকার করেছেন, ভারতের উপর এত শুল্ক চাপানো সহজ ছিল না। বরং সম্পর্কের ফাটল স্পষ্ট হয়েছে। প্রকাশ্যে বলেছেন, বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কাটাতে তাঁর প্রশাসন ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। মোদীর সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনেও আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি। পাল্টা মোদীও সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রশংসা করছেন এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে। তাই এই সফরের আগে থেকেই জল্পনা বাড়ছিল—ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার নতুন দরজা খুলতে পারে।
তবে বিতর্ক এখানেই। একদিকে ট্রাম্প নরম সুরে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চাইছেন, অন্যদিকে ইউরোপকে উসকে দিচ্ছেন ভারতের উপর ১০০ শতাংশ কর চাপানোর জন্য। এ নিয়ে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই। কেন্দ্রের অর্থনৈতিক উপদেষ্টার দাবি, ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতির ফলে ভারতের জিডিপি খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, সর্বাধিক আধ শতাংশ। কিন্তু সেইসঙ্গে ঝুঁকির কথাও তিনি অস্বীকার করেননি। অর্থাৎ হুমকিও বজায় রয়েছে। এদিকে জেলেনস্কিও সরাসরি ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’-এর পক্ষে মন্তব্য করেছেন। ফলে ভারতের জন্য খেলার ময়দান আরও জটিল হয়ে উঠছে।
Supreme Court Notice: ৭ অক্টোবর এসআইআর মামলার রায়, বেআইনি প্রমাণ মিললে বাতিল হবে ভোটার তালিকা সংশোধন!
সব মিলিয়ে, মোদী-ট্রাম্প সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘন হচ্ছে। যে সম্পর্ককে একসময় “বন্ধুত্ব” বলে প্রচার করা হয়েছিল, আজ সেটাই কি অতীত? মার্কিন প্রশাসনের কণ্ঠে কখনও মিষ্টি কথা, কখনও কঠোর হুঁশিয়ারি—ভারত কোনটিকে বিশ্বাস করবে? ব্রেন্ডন লিঞ্চের সফর হয়তো নতুন আলোচনার দরজা খুলতে পারে, কিন্তু অনিশ্চয়তার কুয়াশা কাটাবে কি? না কি এ আলোচনাও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে থমকে যাবে? উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে দিল্লি, আর তার থেকেও বেশি উদ্বিগ্ন ভারতীয় বাজার।





