আলোড়ন ফেলেছে মোদীর ‘এক দেশ, এক হেলথ আইডি কার্ড’ প্রকল্প, নেপথ্যে রয়েছেন এই বঙ্গসন্তান

ভারতের স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ইতিমধ্যেই কিছু নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যা আলোড়ন তুলেছে গোটা দেশে। এর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য এক প্রকল্প হল, ‘এক দেশ, এক স্বাস্থ্য আইডি কার্ড’। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছেন এক বাঙালি সে কথা কি জানেন? ডাক্তার ইন্দ্রনীল খান (Indranil Khan) নামে এই বাঙালি চিকিৎসক কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কৃতী প্রাক্তনী। তিন বছর আগেই দেশের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার কাছে হেলথ আইডি কার্ড চালু করার প্রস্তাব রেখেছিলেন তিনি। চলতি বছরে তাঁর প্রস্তাবকে মান্যতা দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

স্বাভাবিকভাবেই এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাঙালিদের মনে নেমেছে খুশির ঢল। ডাক্তার খান বর্তমানে ঢাকুরিয়া আমরি হাসপাতালে কর্মরত। তাঁর ছোটবেলা কেটেছে কলকাতা সংলগ্ন বাটানগরে‌। প্রথম জীবনের সাউথ পয়েন্ট স্কুল থেকে পঠন-পাঠন এবং পরবর্তীকালে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন এই চিকিৎসক। পরে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন এই কৃতী।

২০১৭ সালের ২১ জুলাই নির্মাণ ভবনে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার কাছে নিজের গবেষণাপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর গবেষণায় সমস্ত হাসপাতাল ও ল্যাব গুলিকে ন্যাশনাল হেলথ গ্রিড এর অধীনে আনার প্রস্তাব রাখেন তিনি। এরপর প্রত্যেকটি রোগীকে একটি ইউনিক আইডি কার্ড দেওয়ার প্রস্তাবও রাখেন তিনি। যেকোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই কার্ড পাঞ্চ করলে দেখা যাবে রোগীদের যাবতীয় হেলথ রিপোর্ট।

ডাক্তার খান মনে করেন যে, একজন মানুষকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণে টাকা খরচ করতে হয় শুধু বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করাতে গিয়ে। অনেক সময় দেখা যায় তাঁকে একই পরীক্ষা বারংবার করতে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যদি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ডেটাবেস তৈরি করা যায় তাহলে রোগীকে বারবার টেস্ট করতে হবে না। সেক্ষেত্রে উপকৃত হবেন বহু মানুষ।

এই বাঙালি কৃতী সন্তানের রিসার্চ পেপার কে স্বীকৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, আগামী দিনে ১৩০ কোটি ভারতবাসীর জন্য একটি ইউনিক হেলথ আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে ওই ব্যক্তির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দেওয়া থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় যারপরনাই খুশি ডাক্তার ইন্দ্রনীল খান। তাঁর কথায়, এই পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয় সরকার সীলমোহর দেওয়ায় অনেক মানুষ উপকৃত হবেন, এই কথা ভেবেই তাঁর ভালো লাগছে।

RELATED Articles

Leave a Comment