অযোধ্যার রামমন্দির শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে নয়, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক কারণেও বহুবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নির্মিত এই মন্দিরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। দেশ-বিদেশের পর্যটক থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বেরাও এখানে আসেন। তবে এত বড় ধর্মীয় স্থানে হামলার আশঙ্কা নতুন কিছু নয়। এর আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সতর্কবার্তা জারি করেছিল যে, এই মন্দিরকে নিশানা করতে পারে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি।
সম্প্রতি এই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিল গুজরাট ও হরিয়ানার এসটিএফ-এর যৌথ অভিযান। ফরিদাবাদ থেকে ধরা পড়ল এক সন্দেহভাজন জঙ্গি, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে রামমন্দিরে হামলার ছক কষছিল। পুলিশের দাবি, তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিস্ফোরক। এই ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন ঘটনায় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চাপানউতোর। ইতিমধ্যেই এনআইএ ও আইবি তদন্ত শুরু করেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ধৃত জঙ্গির নাম আবদুল রহমান, বয়স মাত্র ১৯ বছর। সে অযোধ্যার মিল্কিপুরের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামিক স্টেটের (IS) সঙ্গে যুক্ত। তদন্তকারীদের দাবি, সে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখত। জানা গিয়েছে, রহমান দশম শ্রেণি পাশ করার পর মাংসের ব্যবসার আড়ালে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি, ই-রিক্সা চালানোর কাজও করত সে। গত ১০ মাসে সে অনলাইনে বিস্ফোরক ব্যবহার, হামলার কৌশল ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পার্টি অফিস ভাঙা উচিত! উদয়ন গুহের বিতর্কিত মন্তব্যে চরম উত্তেজনা, ২৬-র নির্বাচনে খোলাখুলি যুদ্ধ ঘোষণা?
সূত্র বলছে, রামমন্দিরে হামলার জন্য একাধিকবার সে সেখানে গিয়েছিল। গোপনে পর্যবেক্ষণ করে কীভাবে হামলা করা যায়, তা ঠিক করে। শুধু রামমন্দিরই নয়, গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরেও হামলার পরিকল্পনা ছিল তার। সম্প্রতি দিল্লি যাওয়ার নাম করে ফরিদাবাদ পৌঁছায় রহমান। সেখানে শংকর নামে এক হোটেলে ওঠে এবং এক হ্যান্ডলারের কাছ থেকে হ্যান্ড গ্রেনেড সংগ্রহ করে। ধৃতের মোবাইল ঘেঁটে পুলিশ জানতে পেরেছে, সে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, রহমানের পরিকল্পনা ছিল জনসমাগম বেশি থাকার সময় বিস্ফোরণ ঘটানো। তবে পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যাতে তার অন্য কোনও সঙ্গী রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা যায়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি নিশ্চিত যে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং আইএস-এর বড় চক্রান্তের অংশ। অভিযুক্তের জবানবন্দি এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও সন্ত্রাসী চক্রের খোঁজ চলছে।





