ভোটের মরশুম যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। একদিকে বিরোধীরা অভিযোগ তুলছে ভুয়ো ভোটারদের নিয়ে, অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস নিজেই অভিযান চালাচ্ছে ভোটার তালিকা পরিস্কার করতে। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও ভুয়ো ভোটার তালিকায় থাকা চলবে না। নেতারা সেই নির্দেশ মেনে এলাকা ঘুরে ভোটারদের যাচাই করে দেখছেন। তবে এই অভিযান চালাতে গিয়েই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
নদিয়া জেলার এক নেত্রীর নামই নাকি রয়েছে দু’জায়গার ভোটার তালিকায়! অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীরা কটাক্ষ করছে, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার দাবি তুললেও, নিজের দলের নেত্রীদের নামই দুই জায়গায় থেকে যাচ্ছে! যদিও অভিযুক্ত নেত্রীর দাবি, তিনি কিছুই জানতেন না। কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? কী বলছে প্রশাসন?
নদিয়ার নাকাশিপাড়া এবং কালীগঞ্জ— এই দুই বিধানসভার ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে তৃণমূল নেত্রী শেফালি খাতুনের। তিনি শুধুমাত্র দলের নেত্রী নন, কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও। ভোটার তালিকা ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, নাকাশিপাড়ার পালিতবেঘিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে তাঁর নাম রয়েছে, আবার কালীগঞ্জের দেবগ্রামেও ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত তিনি! স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়টি সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশন নড়েচড়ে বসেছে। শেফালি খাতুন অবশ্য দাবি করেছেন, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। তাঁর কথায়, “আমাদের গ্রামের বাড়ি ছিল নাকাশিপাড়া বিধানসভার পালিতবেঘিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে। পরবর্তীতে আমরা দেবগ্রামে চলে আসি, যা কালীগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত। সেই সময় আমরা পুরনো ভোটার কার্ড বদল করে দেবগ্রামে নতুন কার্ড করিয়েছিলাম। কিন্তু পুরনো তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে কিনা, তা জানা ছিল না।”
আরও পড়ুনঃ ভারতে বড় হামলার ছক! রামমন্দির-সোমনাথ মন্দির উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, ধৃত পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি!
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের তরফে তৎপরতা শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা তদন্তে নামে। এরপর দেখা যায়, নাকাশিপাড়া বিধানসভার তালিকায় এখনও শেফালির নাম রয়েছে। বিষয়টি জানার পরই তিনি কমিশনের অফিসে গিয়ে আবেদন করেন, যাতে পুরনো তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে বিরোধীরা তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, “তৃণমূল ভুয়ো ভোটার তৈরি করে। একজন প্রশাসক হয়ে কীভাবে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করলেন?” অন্যদিকে, সিপিএমও এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বলছে, “শাসকদলের নেত্রীর নাম যদি দু’জায়গায় থাকতে পারে, তাহলে বোঝাই যাচ্ছে ভোটার তালিকায় কীভাবে কারচুপি চলছে!”
তৃণমূলের তরফে অবশ্য এই ঘটনার দায় পুরোপুরি নেত্রীর ওপরই চাপানো হয়েছে। দলের এক নেতার বক্তব্য, “ভোটার তালিকা থেকে পুরনো নাম বাদ দেওয়া ব্যক্তিগত দায়িত্ব। দল বা প্রশাসন এর জন্য দায়ী নয়।” তবে এই ঘটনা সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠছে, আরও কতজন নেতার নাম দুই জায়গায় থাকতে পারে? নির্বাচন কমিশন কি আরও তদন্ত করবে? এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে আপাতত, ভোটের আগে এই ঘটনা তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তা বলাই যায়।





