রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার আবহ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। একাধিক ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর জেরে কলকাতা থেকে শুরু করে জেলা শহর—সব জায়গায় শাসক-বিরোধী তরজা চরমে উঠেছে। বিশেষ করে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর বিরুদ্ধে শাসক দলের তরফে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। পাল্টা বামেদের দাবি, শাসকদলই পরিকল্পিতভাবে তাদের দমন করতে চাইছে।
এই আবহেই ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক সংঘাত। যাদবপুর-কাণ্ডের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে যেমন শাসক দলের বিরুদ্ধে পথে নামছে বিরোধীরা, অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে পাল্টা মিছিল করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোচবিহার সহ একাধিক জেলায়। বিশেষ করে কোচবিহারের দিনহাটায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পেয়েছে। আর এই প্রেক্ষিতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ।
মন্ত্রী উদয়ন গুহের বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। রবিবার তিনি মন্তব্য করেন, “সিপিএমের পার্টি অফিসগুলো কেন ভাঙা হয়নি, সেটাই আশ্চর্যের বিষয়!” এরপর থেকেই বিরোধীদের তরফে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যদিও উদয়ন গুহ স্পষ্ট করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভাঙচুরের পক্ষে নন, তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাত্য বসুর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের পর যেভাবে হামলা হয়েছে, তাতে বিস্মিত তিনি। তবে কি এই মন্তব্য আসলে ইঙ্গিতবাহী? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
আরও পড়ুনঃ শীতের ছোঁয়া উধাও! চলতি সপ্তাহেই কলকাতায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস!
এখানেই থামেননি উদয়ন গুহ। তিনি সরাসরি বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যে দাওয়াই প্রয়োজন, সেটাই দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “যেখানে ক্যাপসুল লাগবে, সেখানে ক্যাপসুল। যেখানে হোমিওপ্যাথির গুলিতে হবে, সেখানে হোমিওপ্যাথির গুলি। আর যেখানে অপারেশন দরকার, সেখানে অপারেশন করেই বিজেপি নেতাদের বোঝাতে হবে।” কার্যত এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন পড়ে গেছে। বিরোধীরা একে শাসক দলের ‘সন্ত্রাসের বার্তা’ বলে দাবি করছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে সিপিএম পার্টি অফিস ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায়। সোমবার অভিযোগ ওঠে, তৃণমূল সমর্থকরা পার্টি অফিসে তালা দিয়ে দেন, যার ফলে ভিতরে আটকে পড়েন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। পরে অবশ্য তিনি বেরিয়ে এসে বলেন, “কোনও নেতা ফুটেজ খাওয়ার জন্য পার্টি অফিসে অসভ্যতা করবেন, এটা কখনই চলতে পারে না।” এদিকে, উদয়ন গুহের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীরা কটাক্ষ করেছে, “এটাই প্রমাণ করে শাসক দলের আসল রূপ!” এখন দেখার, এই বিতর্ক রাজনৈতিকভাবে কোনদিকে মোড় নেয়।





