“সময় কাটলে আমি ওয়েলে নেমে যাব” ক্ষোভে ফেটে পড়লেন জয়া বচ্চন! রূপান্তরকামী বিল নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্যসভা, অভিনেত্রীর সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডার জেরে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি!

বুধবার রাজ্যসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা চলাকালীন হঠাৎই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রূপান্তরকামীদের নিয়ে আনা এই বিলকে ঘিরে একদিকে যেমন মতবিরোধ ছিল, অন্যদিকে সভার ভেতরে বারবার বিশৃঙ্খলাও তৈরি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চনকে দেখা যায় বেশ ক্ষুব্ধ অবস্থায়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বারবার বাধার মুখে পড়ছিলেন। ফলে ধীরে ধীরে তাঁর অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংসদের মতো গুরুতর জায়গাতেও তাঁর এই প্রতিক্রিয়া নজর কাড়ে।

নিজের বক্তব্য শুরু করার সময় জয়া বচ্চন আসন্ন রাম নবমীর শুভেচ্ছা জানান। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্য সদস্যদের কথাবার্তা তাঁর বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি করে। এতে তিনি বিরক্ত হয়ে সরাসরি ধমকের সুরে বলেন, সবাই যেন শান্ত হয়ে বসেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কেউ যখন কথা বলছেন তখন অন্যদের উচিত মনোযোগ দেওয়া। বারবার বাধা আসায় তিনি পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে কিছুটা কড়া ভাষা ব্যবহার করেন। এতে সভার পরিবেশ আরও কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এদিন সভা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের সাংসদ ডঃ দিনেশ শর্মা। সময়ের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি জয়া বচ্চনকে সংক্ষেপে বক্তব্য শেষ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু এই মন্তব্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়া। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর কথা বলার সময় কে ঠিক করবে। নিজের বক্তব্য রাখার অধিকার নিয়ে তিনি সরাসরি আপত্তি জানান। এমনকি তিনি বলেন, প্রয়োজনে তিনি সংসদের ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ জানাবেন।

তবে ব্যক্তিগত এই উত্তেজনার মাঝেও জয়া বচ্চন মূল বিষয়টি থেকে সরে যাননি। তিনি বিলটি নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, এত তাড়াহুড়ো করে এই বিল আনার কারণ স্পষ্ট নয়। তিনি মনে করেন, এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে আরও সময় নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি অতীতের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, একসময় রূপান্তরকামীরা সমাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করতেন এবং নিরাপত্তার দায়িত্বেও থাকতেন। সেই তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ Ram Navami 2026 : যাদবপুরে রামনবমীতে বাধা তৃণমূল ও বাম ছাত্র সংগঠনের! স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানে সরগরম রাজ্যের একাধিক এলাকা! ৩০০০ পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কেন ছড়াচ্ছে উত্তেজনা?

জয়া বচ্চন শেষ পর্যন্ত বিলটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তাঁর প্রস্তাব, এই বিল আপাতত তুলে রেখে পরে আবার আলোচনা করা হোক। একই সুরে বিরোধী দলের অন্যান্য সদস্যরাও বিলটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর এই বিলকে পিছিয়ে পড়া চিন্তাধারার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন। বিরোধীদের দাবি, বিষয়টি আরও বিশদে খতিয়ে দেখতে সংসদের সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হোক। ফলে এই বিল নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনেও চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

khabor24x72019

আরও পড়ুন

RELATED Articles