আজ সারা রাজ্য জুড়ে পালিত হচ্ছে রামনবমী। সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রান্তে পুজো, শোভাযাত্রা আর ভক্তদের ভিড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। তিথি থাকছে আগামীকাল পর্যন্ত, ফলে দু’দিন ধরেই ভক্তদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। রামভক্তদের কাছে এই দিনটির বিশেষ তাৎপর্য থাকায় বহু জায়গায় আয়োজন হয়েছে বিশেষ পূজা ও শোভাযাত্রার।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আজ সকাল থেকেই একের পর এক মিছিল বের হতে দেখা গিয়েছে। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় রামনবমী ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। নবান্নে আগেই বৈঠক করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, আদালতের নির্দেশ মেনে মিছিল করতে হবে, কোনও অস্ত্র বহন করা যাবে না এবং নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি লোক অংশ নিতে পারবে না। তবুও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অন্যরকম ছবি আসতে শুরু করে।
বিশেষ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রামনবমী পালনের সময় দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি গরম হয়ে ওঠে। একদিকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং তৃণমূল সংগঠন, অন্যদিকে রামনবমী পালনকারী সংগঠন, দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে স্লোগান দিতে থাকে। ‘জয় শ্রীরাম’-এর পাশাপাশি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানেও মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
এবিভিপি-র সদস্যদের দাবি, তাদের পুজোয় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। সংগঠনের এক সদস্য জানান, কিছু গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবাদ করে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মসূচি করা যায় না।
আরও পড়ুনঃ এবার বড়পর্দায় ‘অপারেশন সিঁদুর’! ‘দ্যা বেঙ্গল ফাইলস’-এর পর, নতুন চমক নিয়ে ফিরছেন পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী! হয়ে গেল ঘোষণা, কবে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি?
অন্যদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়। এবিভিপি-র পক্ষ থেকে পুজোর অনুমতি চাওয়া হলেও সাড়া না পাওয়ায় কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে পুজোর আয়োজন করা হয়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে অনুষ্ঠান হয়। সব মিলিয়ে একদিকে রাজ্য জুড়ে রামনবমীর উৎসবমুখর পরিবেশ, অন্যদিকে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উত্তেজনার আবহ এই দুই বিপরীত ছবিই ধরা পড়ল এ বছরের রামনবমীতে।





