মরু রাজনীতির হাওয়া ঝাড়খন্ডেও! দলের প্রতি অসন্তুষ্ট অর্ধেক কংগ্রেস বিধায়ক, অস্বস্তিতে হেমন্ত সোরেনের সরকার!

চারিদিকের ঝামেলায় মহা সঙ্কটে কংগ্রেস নেতৃত্ব। একদিকে যখন টালমাটাল রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার। তার‌ই মাঝে শীর্ষ নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়িয়ে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতেও লাগলো অশান্তির ছোঁয়া।

সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের অর্ধেকের বেশি কংগ্রেস বিধায়ক হয় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আর নাহয় কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি রামেশ্বর ওরাংয়ের ভুমিকায় অসন্তুষ্ট। এবং নিজেদের সেই ক্ষোভ একেবারেই গোপন করেননি কংগ্রেসের এই নেতারা।

মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং রাজ্য সভাপতি রামেশ্বর ওরাংয়ের বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকতে গোপনে দিল্লিতেও উড়ে গেছেন তাঁরা। সেখানে গিয়ে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আহমেদ প্যাটেলের সঙ্গে দেখা করেছেন ‘অসন্তুষ্ট’ বিধায়করা।

২০১৯-এই ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে কংগ্রেস-জেএমএম-আরজেডি জোট। মোট ৮১টি আসনের ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় শাসক শিবির পায় ৪৭টি আসন। এর মধ্যে জেএমএম একাই পায় ৩০ আসন। কংগ্রেসের হাতে আসে ১৬টি আসন এবং আরজেডি পায় ১টি আসন। বিজেপির দখলে যায় ২৫টি আসন। পরে অন্য দল থেকে ২ জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন কংগ্রেস শিবিরে। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এই জোট শিবিরে শুরু অশান্তি। সূত্র জানাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাজে সন্তুষ্ট নন অন্তত ৮-৯ জন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁদের দাবি, হেমন্তের এই সরকার পূর্ববর্তী বিজেপি সরকারের প্রতিচ্ছবি মাত্র। মানুষের সমস্যার কথা শোনা তো দূরের কথা শুধু চাকচিক্য‌ই সার।

এদের মধ্যে অসন্তোষ আছে দলের নেতাদের ভূমিকা নিয়েও। অনেকেরই দাবি, দলে উপযুক্ত সম্মান পাচ্ছেন না এই বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। এবং এই ‘বিদ্রোহী’নেতাদের নেতৃত্বে রয়েছেন জামতাড়া কেন্দ্রের বিধায়ক তথা প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ইরফান আনসারি। এছাড়াও উমাশঙ্কর আকেকা, রাজেশ কাশ্যপের মতো বর্ষীয়ান নেতারাও অসন্তুষ্ট। জানা গেছে এঁদের অসন্তোষের মূল কারণ, মন্ত্রিত্ব। রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্বেও ইরফান আনসারি মন্ত্রিত্ব পাননি। আবার রামেশ্বর ওরাং প্রদেশ সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রীপদে বসে আছেন। এই নিয়েই জোট সংকট। এই কুড়িয়ে পাওয়া সুযোগ হেলায় ছাড়েনি বিজেপিও। সব গুছিয়ে আসরে তাঁরাও।

আরও অন্যান্য খবর