ফের বেআব্রু হল রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা। দীর্ঘ নয় ঘণ্টা ধরে ঘুরে পর পর নয়টি হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন কলকাতার এক তরুণী। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, বাঘাযতীন এলাকার বাসিন্দা পিয়ালি সরকার বেশ কয়েকদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন। স্থানীয় চিকিৎসক তাঁর করোনা পরীক্ষা করাতে দিলে রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া যায়। এরপর তাঁর চিকিৎসক বলেন যে তিনি নিউমোনিয়া আক্রান্ত এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই তরুণীর পরিবার দাবি করেছেন যে, পিয়ালির করো না রিপোর্ট নেগেটিভ আসা সত্ত্বেও তাঁর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল। শুক্রবার রাত আটটা থেকে শুরু করে সারারাত অনেক চেষ্টা করে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে কলকাতার মোট নয়টি জায়গায় ঘুরেও একটিতেও বেড মেলেনি।
শুধু তাই নয় ১৫ টি নার্সিংহোমে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফোন করা হয়েছিল হয়েছিল কিন্তু জায়গা মেলেনি। শেষে শনিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ তাঁকে স্থানীয় বাঘাযতীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অক্সিজেন দেওয়া শুরু হয়।
হঠাৎ করে কুড়ি মিনিট পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় এখানে ভর্তি করা যাবে না। হতভম্ব হয়ে যায় পিয়ালীর পরিবার।। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এরপর হেঁটে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠার সময় মাটিতে পড়ে যান পিয়ালি এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পিয়ালির পরিবারের কাছে ফোন আসে কিন্তু তা তাঁর মৃত্যুর ৫ ঘণ্টা পর। এক সন্তানের মা পিয়ালির বিনা চিকিৎসায় এই মর্মান্তিক মৃত্যু রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেল।





